পানির মতো অর্থও সব সময় সবচেয়ে মজবুত বাঁধের ছিদ্র দিয়ে পথ খুঁজে নেয়। গত ৮ জুলাই স্টেট ডুমার আর্থিক বাজার বিষয়ক কমিটি ‘ডিজিটাল কারেন্সি ও ডিজিটাল রাইটস’ বিলটি দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য চূড়ান্ত করেছে, যেখানে দেশের অভ্যন্তরে পেমেন্টের ক্ষেত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে।
বিলের প্রথম সংস্করণে এই ছাড় কেবল মাইনিং রিওয়ার্ড এবং বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন এতে সিকিউরিটিজের মূল্য পরিশোধ (পাবলিক অফারের বাইরে), এক ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে অন্যটিতে রূপান্তর এবং ব্লকচেইন সিস্টেমের কমিশনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান নিয়মগুলো কার্যকরের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে এবং কিছু বিধিনিষেধ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এর পেছনে কেবল কারিগরি কোনো সংশোধন নেই। সুইফট (SWIFT) থেকে ব্যাংকগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞার জাল কাটার জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন তেমনই একটি মাধ্যমে পরিণত হচ্ছে: আইনি মধ্যস্থতাকারী, লাইসেন্স এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেও এর মাধ্যমে এমন সব লেনদেন করা সম্ভব হবে, যা অন্য উপায়ে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হলো, ধূসর বাজার এখন ধীরে ধীরে আইনি রূপ লাভ করছে। যাচাইকৃত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচা যেমন সহজ হবে, তেমনই বাড়বে স্বচ্ছতাও: প্রতিটি লেনদেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে থাকবে। যারা বেনামি পিটুপি (P2P) লেনদেনে অভ্যস্ত, তাদের ওপর চাপ বাড়বে—কারণ ২০২৭ সাল থেকে অবৈধভাবে মুদ্রা বিনিময়ের আয়োজন করলে ফৌজদারি দণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
এখানে সব পক্ষের স্বার্থ জড়িয়ে আছে: রাষ্ট্র চায় নিয়ন্ত্রণ ও কর সংগ্রহ করতে, ব্যবসায়ীরা চান আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগ পেতে, আর সাধারণ মানুষ অস্থিরতার মধ্যে নিজেদের সঞ্চয় রক্ষা ও বৃদ্ধির উপায় খুঁজছেন। পুরনো প্রবাদেই আছে, ‘যেখানেই বেড়া, সেখানেই চুর পথ’।
পরিশেষে, এই আইন দেশের অভ্যন্তরে ক্রিপ্টো পেমেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে না, বরং একে আরও নমনীয় করছে। অর্থ তার নিজস্ব পথ খুঁজবেই, তবে এখন থেকে সেই পথের একটি অংশ অন্তত সরকারি গেটওয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

