এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপের চাহিদা নিয়ে সংশয়ের জেরে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর শেয়ারে ধস নামলেও, বিটকয়েন বেশ দৃঢ়তার সাথে ৬১ হাজার ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। একদিনেই এর দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ, অথচ সম্প্রতি এটি ৫৮,২০০ ডলারে নেমে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই উত্থানের কারণ এআই নিয়ে উৎসাহ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুরে আকস্মিক নমনীয়তা।
সিন্ট্রায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ফোরামে ফেড প্রধান কেভিন ওয়ারশ জানান, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দৃশ্যত কমে এসেছে। গত জুনের কঠোর বা 'হকিশ' পূর্বাভাসের তুলনায় এবারের বক্তব্য অনেকটাই নমনীয় ছিল, যার প্রভাবে তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিটকয়েন ইটিএফ থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বিনিয়োগকারীরা ওয়ারশর এই বক্তব্যকে একটি সংকেত হিসেবে দেখছেন যে, কঠোর মুদ্রানীতি হয়তো আর বেশিদিন দীর্ঘায়িত হবে না। ফলে নিম্নমুখী শেয়ার বাজারকে পাশ কাটিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে এক ধরনের আপেক্ষিক শক্তি পরিলক্ষিত হয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি (Kospi) সূচক ৭.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে: এআই চিপের অতিরিক্ত উৎপাদনের আশঙ্কায় স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্স সম্মিলিতভাবে ২৯০ বিলিয়ন ডলারের বাজার মূলধন হারিয়েছে। অন্যদিকে মেটা তাদের অতিরিক্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা বাইরের গ্রাহকদের কাছে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, একই ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকেতে প্রথাগত বাজার এবং ক্রিপ্টো বাজার কতটা ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বর্তমানের এই পুনরুদ্ধার বিটকয়েনকে মূল সাপোর্ট লেভেল থেকে সামান্যই দূরে সরিয়ে নিতে পেরেছে। শুক্রবারের মার্কিন কর্মসংস্থান রিপোর্ট যদি শক্তিশালী হয়, তবে ফেড তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ পাবে; অন্যদিকে দুর্বল তথ্য সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। যাই হোক না কেন, এই রিপোর্টটিই পুরো জুলাই মাসের বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
পানির মতোই অর্থ সব সময় সহজতম পথ খুঁজে নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যখন সম্ভাব্য নীতি শিথিল করার আভাস দেয়, তখন পুঁজি সেই দিকেই ধাবিত হয় যেখানে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা আগে থেকেই মূল্যের সাথে সমন্বয় করা থাকে—আর বিটকয়েন এক্ষেত্রে অন্যতম সংবেদনশীল সূচক হিসেবে কাজ করে। বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা উচিত যে, প্রতিটি উত্থানের পেছনে কেবল কারিগরি কারণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী হার এবং ঝুঁকির পুনর্মূল্যায়নও কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের পরবর্তী প্রতিবেদনই ঠিক করে দেবে এই গতি অব্যাহত থাকবে কি না, নাকি বিটকয়েন আবার ৫৮,০০০ থেকে ৬০,০০০ ডলারের সীমানায় ফিরে আসবে।

