আটলান্টিক রুটের পরীক্ষা: আকাশে সাদা দাগ এড়ানোর উপায়

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

2026 সালের আগস্ট মাসে বিমান সংস্থাগুলো ট্রান্সআটলান্টিক রুটে পরীক্ষামূলক পরিবর্তন শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল কনট্রেইল বা ইনভার্সন ট্রেইল তৈরি কমানো—আকাশে সেই সাদা রেখাগুলো, যা গবেষণার তথ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

ইনভার্সন ট্রেইল তৈরি হয় যখন ইঞ্জিনের নির্গত গ্যাস নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বরফের স্ফটিক হিসেবে ঘনীভূত হয়। এই মেঘগুলো বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে এবং জলবায়ুর ওপর এদের প্রভাব, বিজ্ঞানীদের মতে, বিমান চলাচলের ফলে সৃষ্ট কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের সাথে তুলনীয়। উচ্চতা পরিবর্তন বা যাত্রাপথে সামান্য বিচ্যুতি ঘটিয়ে এমন এলাকাগুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব যেখানে এই ট্রেইলগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়।

পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফল থেকে দেখা যায় যে, সামান্য সমন্বয়—অক্ষাংশের দিক থেকে 1–2 ডিগ্রি বা উচ্চতার দিক থেকে 300–600 মিটার—কিছু নির্দিষ্ট ফ্লাইটে দীর্ঘস্থায়ী ট্রেইল তৈরি 50–70 শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচও নগণ্য থাকে, কারণ বিচ্যুতিগুলো খুব সামান্য।

প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, মূল চ্যালেঞ্জ হলো বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া। আবহাওয়া সংক্রান্ত মডেলগুলো এখন বিভিন্ন উচ্চতায় আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করছে, যাতে পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা রিয়েল-টাইমে নির্দেশনা পেতে পারেন। এর জন্য বিমান সংস্থা, আবহাওয়া দপ্তর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।

যাত্রীদের কাছে এই পরিবর্তনগুলো আপাতত অদৃশ্য: ভ্রমণের সময় গড়ে কয়েক মিনিট বাড়ে এবং টিকিটের দামও বাড়ে না। তবে ভবিষ্যতে, যদি বৃহত্তর পরিসরে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়, তবে এই ধরনের পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক মানদণ্ডের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরীক্ষাটি তুলে ধরে যে, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে জলবায়ু বিষয়ক সমাধানের জন্য সবসময় আমূল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না—কখনও কখনও প্রচলিত রুটগুলো নতুন করে ভেবে দেখাই যথেষ্ট।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • U.K. to Test Whether Tweaks to Trans-Atlantic Flight Paths Affect Global Warming

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।