জলে থাবা: আপনার কুকুরছানাকে সঠিকভাবে এবং উদ্বেগহীনভাবে সাঁতার শেখানোর উপায়

লেখক: Svitlana Velhush

জলে থাবা: আপনার কুকুরছানাকে সঠিকভাবে এবং উদ্বেগহীনভাবে সাঁতার শেখানোর উপায়-1

গ্রীষ্মের প্রখর রোদ আর নদী বা হ্রদের শীতল জলের হাতছানি... যখন আপনি আপনার কুকুরছানাকে নিয়ে প্রথমবার জলের ধারে যান, তখন তাকে সরাসরি গভীরে নিয়ে গিয়ে স্বাভাবিক প্রবৃত্তির ওপর ভরসা করার প্রলোভন জাগতেই পারে। তবে আমরা একটি বড় ভুল ধারণা ভেঙে দিতে চাই: কুকুররা সাঁতার কাটার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না, তারা কেবল জলে পা নাড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়!

তবে জলে ভেসে থাকা, ভয় না পাওয়া, সঠিকভাবে শ্বাস নেওয়া এবং আতঙ্কিত না হওয়া—এই বিষয়গুলো তাদের শিখতে হয়। আর একজন মালিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো আপনার প্রিয় ছানাটির জন্য একজন নির্ভরযোগ্য প্রশিক্ষক এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানকারী হওয়া।

শারীরিক গঠন গুরুত্বপূর্ণ: কারা জন্মগতভাবে জলের জন্য তৈরি?

জলে থাবা: আপনার কুকুরছানাকে সঠিকভাবে এবং উদ্বেগহীনভাবে সাঁতার শেখানোর উপায়-4

প্রশিক্ষণ শুরু করার আগে আপনার পোষা প্রাণীর শারীরিক সক্ষমতা বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।

* জন্মগত সাঁতারু: রিট্রিভার, নিউফাউন্ডল্যান্ড, স্প্যানিয়েল, পর্তুগিজ ওয়াটার ডগ এবং পুডল। এদের পায়ের আঙুলে লিপ্তপাদ বা পর্দা আছে, লোম জলরোধী এবং পেশীবহুল শরীর রয়েছে। তারা জল খুব পছন্দ করে এবং সবকিছু খুব দ্রুত শিখে নেয়।

* ঝুঁকির তালিকায় থাকা দল: ডাচশুন্ড, কর্গি, ব্যাসেট হাউন্ড। এদের শরীর লম্বা কিন্তু পা ছোট। তারা সাঁতার কাটতে পারলেও খুব দ্রুত হাঁপিয়ে যায়, তাই এদের জন্য লাইফ জ্যাকেট অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

* যাদের জন্য সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ বা অত্যন্ত কঠিন: ব্র্যাকিসেফালিক বা ছোট নাকের কুকুর (যেমন বুলডগ, পাগ, পেকিনিজ) এবং ভারী বুকওয়ালা কুকুর (যেমন স্টাফোর্ডশায়ার টেরিয়ার, পিটবুল)। ছোট মুখের কারণে এদের পক্ষে জলের ওপরে নাক রেখে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয় এবং শরীরের সামনের অংশ ভারী হওয়ায় ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এদের জন্য সাঁতার মানে কেবল অগভীর জল এবং অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা।

ধাপে ধাপে নির্দেশিকা: তটরেখা থেকে প্রথম সাঁতার পর্যন্ত

মূল নিয়ম: কোনো জোর-জবরদস্তি বা মানসিক চাপ দেওয়া যাবে না। আপনি যদি কুকুরছানাকে নিজে নিজে শিখবে ভেবে জলে ছুড়ে দেন, তবে সারাজীবনের জন্য তার মনে জলের প্রতি তীব্র আতঙ্ক বা সিনোফোবিয়া তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ধাপ ১. তীরের সাথে পরিচয় করানো

কুকুরছানাকে কোনো অগভীর জলাশয়ে নিয়ে যান। তাকে বালি, ঘাস শুঁকতে দিন এবং থাবা দিয়ে জল স্পর্শ করে দেখতে দিন। লেশ বা শিকল ধরে তাকে গভীর জলের দিকে টানবেন না। শান্ত গলায় তার প্রশংসা করুন এবং জলের একদম ধারেই তাকে প্রিয় খাবার দিন। জলের সাথে যেন তার সবসময় আনন্দের স্মৃতি জড়িয়ে থাকে।

ধাপ ২. একসাথে জলে নামুন

নিচটা দেখা যায় না বলে কুকুরছানারা প্রায়ই জল দেখে ভয় পায়। আপনি নিজে আগে জলে নামুন, হাঁটু গেড়ে বসুন এবং আপনার আদরের ছানাটিকে ডাকুন। তাকে আপনার পেছন পেছন আসতে দিন। যখন জল তার বুক পর্যন্ত পৌঁছাবে, সে অনুভব করবে যে তার পা আর মাটি স্পর্শ করছে না। ঠিক সেই মুহূর্তে আলতো করে তার পেটের নিচে হাত দিয়ে তাকে ভরসা দিন।

ধাপ ৩. প্রথম সাঁতার

যখন কুকুরছানাটি পা নাড়াতে শুরু করবে, তখন সাথে সাথেই আপনার হাত সরিয়ে নেবেন না। তাকে পেটের নিচে ধরে সামনের দিকে এগোতে সাহায্য করুন। মায়াবী স্বরে বলুন: "সাবাস সোনা, সাঁতরে চলো!"। তাকে বুঝতে দিন যে আপনি পাশে আছেন এবং সে ডুবে যাবে না।

ধাপ ৪. জল থেকে উঠতে শেখানো!

এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যা অনেকেই ভুলে যান। কুকুরছানাটির জানা উচিত কীভাবে তীরে ফিরে আসতে হয় বা পুল থেকে বের হতে হয়। তাকে ঢালু তীরের দিকে নিয়ে যান, যেখানে জল কম তা দেখিয়ে দিন এবং পা দিয়ে মাটি খুঁজে পেতে সাহায্য করুন। যদি এটি সুইমিং পুল হয়—তবে তাকে সিঁড়ির কাছে নিয়ে যান এবং শারীরিকভাবে তার পা প্রথম ধাপে রাখার জন্য পথ দেখিয়ে দিন।

নিরাপত্তার সুবর্ণ নিয়মাবলী

১. লাইফ জ্যাকেট — বাধ্যতামূলক। এমনকি শুরুর দিকে ল্যাব্রাডরের জন্য এটি প্রয়োজন। এটি কেবল কুকুরকে জলে ভাসিয়েই রাখে না, বরং এর পিঠে একটি বিশেষ হাতল থাকে যা দিয়ে আপনি বিপদের সময় দ্রুত আপনার পোষ্যকে টেনে ধরতে পারবেন।

২. সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন। কুকুরছানারা জলে ক্লান্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি বুঝতে পারে না। প্রথমবার ৫-১০ মিনিটের বেশি সাঁতার কাটানো উচিত নয়। যদি কুকুরটি স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যায় (শরীরের পেছনের অংশ ডুবে যেতে থাকে) বা জোরে জোরে শ্বাস ফেলে—তবে দ্রুত তাকে তীরে ডেকে আনুন।

৩. জলের তাপমাত্রা। কুকুরছানাকে খুব ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটতে দেবেন না। এদের শরীরে হাইপোথার্মিয়া খুব দ্রুত হতে পারে এবং জলে পেশীর খিঁচুনি বা ক্র্যাম্প মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

৪. স্রোত এবং জলজ উদ্ভিদ থেকে সাবধান। সাঁতারের জন্য এমন শান্ত ও পরিষ্কার জলাশয় বেছে নিন যেখানে তীব্র স্রোত, জলের নিচে হঠাৎ খাদ বা ঘন আগাছা নেই যাতে সে আটকে না যায়।

৫. জল খেতে দেবেন না। নদী বা হ্রদের জলে প্রচুর ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী থাকে। খেলার ছলে কুকুরছানা যেন জল গিলে না ফেলে সেদিকে নজর রাখুন। সাথে সবসময় বোতলে টাটকা পানের জল রাখুন।

সাঁতারের পরবর্তী যত্ন

সাঁতার কাটানোর মাধ্যমেই সব কাজ শেষ হয়ে যায় না। আপনার পোষ্যকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচাতে এই তিনটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করুন:

* পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে দিন। নদী বা সমুদ্রের নোনা জল কুকুরের ত্বক শুষ্ক করে দেয় এবং চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। তাই ভালো জল দিয়ে গায়ের সব ময়লা ধুয়ে ফেলুন।

* কান শুকিয়ে নিন। ঝোলা কানওয়ালা কুকুরের (যেমন স্প্যানিয়েল) কানে খুব সহজে জল আটকে যায়। কানের সংক্রমণ রোধ করতে শুকনো তুলো বা নরম টিস্যু দিয়ে কানের ভেতরের অংশ সাবধানে মুছে দিন।

* লোম শুকাতে সাহায্য করুন। যদি আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে, তবে ভেজা গায়ে কুকুরছানাকে বাতাসের মধ্যে রাখবেন না। তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে দিন অথবা শব্দের ভয় না থাকলে হেয়ার ড্রায়ার (কম তাপে) ব্যবহার করুন।

সাঁতার শেখানো কেবল একটি ব্যায়াম নয়, এটি আপনার কুকুরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। জলে আত্মবিশ্বাসের সাথে বিচরণ করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে বের হয়ে আসতে হয় তা জানা জরুরি পরিস্থিতিতে আপনার পোষ্যটির প্রাণ বাঁচাতে পারে।

ধৈর্য ধরুন, প্রতিটি সাফল্যের জন্য তাকে বাহবা দিন এবং খুব শীঘ্রই আপনি গর্বের সাথে দেখবেন আপনার সেই ছোট্ট কুকুরছানাটি কীভাবে একজন দক্ষ ও সুখী সাঁতারুতে পরিণত হয়েছে এবং জল থেকে তার ভেজা খেলনাটি আপনার কাছে বয়ে আনছে!

26 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Гид для летних прогулок: учим собаку плавать с нуля

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।