আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে আপনার বিড়াল বা কুকুর হঠাৎ এবং বেশ জোরে মাথা ঝাঁকায়। বন্য পরিবেশে টিকে থাকার বিবর্তনীয় ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। শিকারি প্রাণীদের কানের গঠন মানুষের চেয়ে আলাদা: এটি ইংরেজি ‘L’ অক্ষরের মতো। এমন একটি বন্ধ গলি থেকে জল, পরজীবী বা ক্ষুদ্র ময়লা যান্ত্রিকভাবে বের করা বেশ কঠিন কাজ। মাথা ঝাঁকানোর ফলে যে কেন্দ্রবিমুখী বল তৈরি হয় তা অভিকর্ষ বলের চেয়ে কয়েক দশ গুণ বেশি শক্তিশালী, যা কানের ভেতরটা দ্রুত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। কিন্তু স্নায়বিক স্তরে এই প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে শুরু হয়?

কানের ছিদ্রের চারপাশে থাকা ত্বক ও লোমকূপের মেকানোরেসেপ্টরগুলো এই আচরণের জন্য দায়ী। এগুলো থেকে পাঠানো সংকেত মস্তিষ্কের কাণ্ডে (brainstem) পৌঁছালে একটি স্বয়ংক্রিয় চালিকা প্রতিবর্ত বা মোটর রিফ্লেক্স সক্রিয় হয়। সাধারণত ঘুম থেকে ওঠার পর, ভিজে গেলে কিংবা কোনো কাজের ফাঁকে—যেমন খুব উত্তেজনাকর খেলা শেষে—প্রাণীরা শরীর ঝাঁকায়। মনোযোগ এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং স্নায়ুগুলোকে সতেজ করার এটি একটি শারীরবৃত্তীয় লক্ষণ।
তবে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এবং অসুস্থতার লক্ষণের মধ্যে পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম। এই নড়াচড়া কখন কেবল রিফ্লেক্স না হয়ে সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, তা বোঝা প্রয়োজন।
মালিকদের জন্য এর প্রধান মাপকাঠি হলো—ঘনঘন মাথা ঝাঁকানো এবং এর প্রেক্ষাপট। যদি আপনার পোষ্য ঘন্টায় কয়েকবার মাথা ঝাঁকায়, অস্বাভাবিকভাবে মাথা একদিকে কাত করে রাখে কিংবা কানে থাবা দিয়ে আঁচড়ানোর চেষ্টা করে, তবে বুঝতে হবে এটি একটি ক্লিনিক্যাল লক্ষণ। এখানে স্নায়বিক প্রক্রিয়াটি বিরতিহীনভাবে কাজ করে, কারণ প্রদাহ, কানের মাইট (Otodectes cynotis) কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ কানের স্নায়ুর প্রান্তগুলোতে ক্রমাগত অস্বস্তি তৈরি করে। এর ফলে প্রাণীর মস্তিষ্ক কানের ভেতরে কোনো বাহ্যিক বস্তুর উপস্থিতি সম্পর্কে অবিরত ভুল সংকেত পেতে থাকে।
এই আচরণের সঠিক সময়ে বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে কানের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া (হেমাটোমা) এবং শ্রবণশক্তি হারানোর মতো গুরুতর জটিলতা রোধ করতে পারে। সহজ এই জৈবিক নিয়মগুলো বোঝা মালিকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, যাতে সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়। পোষা প্রাণীর প্রতিদিনের অভ্যাসের প্রতি সজাগ থাকাই হলো তাদের আগাম সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।




