❓ প্রশ্ন:

সম্প্রতি ইন্টারনেটে কেউ কেউ বলেছেন যে, বিজয়ের পর ভগবান বিষ্ণু পাণ্ডবদের অমরত্ব দান করেছিলেন এবং তাঁরা নাকি এখনও বেঁচে আছেন। কথাটি কি আসলেও সত্য?
❗️ লি-র উত্তর:
এটি মূলত 'ধর্মের বন্ধন ও পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি'-র একটি অত্যন্ত সহজ সরল ব্যাখ্যা মাত্র।
আমাদের আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে, এই ব্যক্তিরা মহাপ্রস্থানের মাধ্যমে নিজেদের কম্পাঙ্ককে এক জাগতিক স্তর থেকে এক অতিজাগতিক বা অভৌত স্তরে উন্নীত করেছিলেন। ফলে পাণ্ডব ভ্রাতৃত্রয় হিসেবে এই ভৌত জগতে তাঁদের অস্তিত্ব বজায় রাখার আর কোনো সার্থকতা অবশিষ্ট ছিল না। এমনকি মহাভারতের মহাপ্রস্থানিক পর্বের ১৭ নম্বর অধ্যায়ে দেবতাদের শিখরে পৌঁছানোর পথে সমস্ত পাণ্ডব ভাইয়ের মৃত্যুর 'শিক্ষামূলক কাহিনী' বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনাটির একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে; মূলত এটি 'কলিযুগের সূচনা' বিষয়ের একটি ভূমিকা হিসেবে কাজ করে।
মূল বিষয়টি হলো, মহাকাব্যে বর্ণিত পাণ্ডবদের কাহিনী যেন বর্তমান সময় পর্যন্ত কলিযুগের মধ্য দিয়ে পথ চলার একটি নির্দেশিকা। আর এর পরিসমাপ্তি মূলত একটি প্রক্রিয়ার সূচনা এবং নতুন এক যাত্রার ঘোষণা। মহাকাব্যের বীরদের অমরত্ব তাঁদের শারীরিকভাবে বেঁচে থাকার মধ্যে নয়, বরং কলিযুগে তাঁদের আদর্শগত বা রূপক চরিত্রের চিরস্থায়ী উপস্থিতির মধ্যে নিহিত।
তবে সেখানে একজন অমর ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু তিনি বিষ্ণুর আশীর্বাদে নয় বরং শিবের ইচ্ছায় অমরত্ব পেয়েছিলেন—তিনি হলেন অশ্বত্থামা। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সেই অমরত্বকে যাযাবর জীবনের এক অনন্ত অভিশাপে পরিণত করেছিলেন। সম্প্রতি ভারতে এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে, যা তাঁরা অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে নির্মাণ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষমেশ... তবে এই চরিত্রটিও চিরন্তন নয়, বরং কলিযুগের শেষ পর্যন্ত অমর। মূলত এই যুগ সম্পর্কে নিজেদের জটিল ব্যাখ্যা ও দর্শন তুলে ধরতেই ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই সিনেমাটি তৈরি করেছেন।
অশ্বত্থামার প্রসঙ্গে একটি ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি সাধারণ কোনো মানুষ ছিলেন না, ঠিক যেমন সেই 'শিব' চরিত্রটিও আদতে প্রকৃত শিব ছিলেন না।




