আলাবামা ইন হান্টসভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি নতুন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছেন, যা দেখায় যে অবিচ্ছিন্ন নিম্ন-তীব্রতার আল্ট্রাসাউন্ড শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রদাহ থেকে নিরাময়ের দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। এই আবিষ্কারটি পোস্ট-ট্রমাটিক অস্টিওআর্থ্রাইটিস প্রতিরোধের জন্য একটি সম্ভাব্য নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব দেয়—এমন একটি অবস্থা যা আর্থ্রাইটিসের আটটি ঘটনার মধ্যে প্রায় একটিতে ঘটে এবং প্রায়শই প্রাথমিক আঘাতের কয়েক বছর পরে দেখা দেয়।
এই গবেষণার মূলে রয়েছে ম্যাক্রোফেজ নামক রোগ প্রতিরোধকারী কোষের ওপর আল্ট্রাসাউন্ডের প্রভাব বোঝা, যা শরীরের প্রদাহ এবং টিস্যু মেরামত উভয় ক্ষেত্রেই জড়িত। আঘাতের পর শরীর দুই ধরনের ম্যাক্রোফেজকে সক্রিয় করে: আক্রমণাত্মক ‘রক্ষক’ (M1) যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পরিষ্কার করে এবং নিরাময়কারী কোষ (M2) যা সুস্থ হতে সাহায্য করে। সমস্যাটি তখনই সৃষ্টি হয় যখন এই রক্ষাকারী ম্যাক্রোফেজগুলো দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয় এবং তা তরুণাস্থি ধ্বংস করে আর্থ্রাইটিস ত্বরান্বিত করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে আল্ট্রাসাউন্ডের প্রভাবে ম্যাক্রোফেজগুলো প্রদাহ সৃষ্টিকারী M1 অবস্থা থেকে টিস্যু মেরামতকারী M2-সদৃশ অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, যার ফলে প্রদাহের মাত্রা কমে এবং টিস্যু নিরাময়ের সাথে জড়িত লক্ষণগুলো বৃদ্ধি পায়। এটি একটি অ-আক্রমণাত্মক এবং ওষুধহীন পদ্ধতি, যা ক্ষতিগ্রস্ত অস্থিসন্ধিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
২০২৬ সালের মে মাসে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ (Scientific Reports) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন কেমিক্যাল অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অনুরাধা সুব্রমানিয়ান। তাঁর দল পিএইচডি গবেষণার অংশ হিসেবে শাহিদ খানের করা জৈবিক পরীক্ষার সাথে গাণিতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সত্যকী রায়ের তৈরি করা গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং এতে গবেষণারত ছাত্র ওয়েন ট্রিপানিও অবদান রেখেছেন।
অস্থিসন্ধিতে আঘাতের পরবর্তী অবস্থা আরও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে গবেষকরা ফাইব্রোনেক্টিন ফ্র্যাগমেন্ট ব্যবহার করেছেন, যা স্বাভাবিকভাবেই জয়েন্টের টিস্যু নষ্ট হওয়ার সময় তৈরি হয়। প্রথাগত গবেষণাগারের পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতিটি আঘাতপ্রাপ্ত জয়েন্টের বাস্তব জৈবিক পরিবেশকে আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করে।
ট্রান্সক্রিপ্টোমিক্স বিশ্লেষণ এবং ডিফারেনশিয়াল ক্লাস্টারিং পদ্ধতির মাধ্যমে গবেষকরা জিনের কার্যকলাপে সুসংগত পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে যে, ম্যাক্রোফেজগুলো যখন আল্ট্রাসাউন্ডের সংস্পর্শে থাকে, তখন প্রদাহের লক্ষণগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং টিস্যু মেরামতের সাথে সম্পর্কিত লক্ষণগুলো বৃদ্ধি পায়।
সুব্রমানিয়ান ব্যাখ্যা করেন, "রক্ষাকারী ম্যাক্রোফেজগুলোর ক্রমাগত আধিপত্য একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনক পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যা পোস্ট-ট্রমাটিক অস্টিওআর্থ্রাইটিস বিকাশে সহায়ক হয়।" তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক রায় আরও যোগ করেন, "মূলত দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণেই পোস্ট-ট্রমাটিক অস্টিওআর্থ্রাইটিস দানা বাঁধে, যা টিস্যু মেরামত হতে বাধা দেয় এবং জয়েন্টের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। অবিচ্ছিন্ন নিম্ন-তীব্রতার আল্ট্রাসাউন্ড রোগ প্রতিরোধকারী কোষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের একটি অ-আক্রমণাত্মক এবং ওষুধহীন উপায় হতে পারে।"
এই গবেষণাটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড মাসকুলোস্কেলিটাল অ্যান্ড স্কিন ডিজিজেসের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (NIH) থেকে ‘R01’ গ্রান্টের আওতায় অর্থায়ন করা হয়েছে।
যদিও এই গবেষণাটি বর্তমানে গবেষণাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তবুও এটি এক বিশাল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রাণীদের ওপর পোস্ট-ট্রমাটিক অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক অবস্থার কার্যকলাপে আল্ট্রাসাউন্ডের প্রভাব পরীক্ষা করা হবে এবং দেখা হবে কীভাবে এটি দীর্ঘমেয়াদী টিস্যু মেরামতে ভূমিকা রাখে। প্রাপ্ত তথ্যগুলো নির্দেশ করে যে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিসের গতি ধীর করতে এবং আঘাত-পরবর্তী জয়েন্ট পুনরুদ্ধারের প্রচলিত চিকিৎসার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।




