এই বছরের মে মাসে কামি রিতা নামের এক নেপালি শেরপা ৩২তম বারের মতো মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ করে পর্বতারোহণের ইতিহাসে নিজের নাম নতুন করে লিখেছন। এই কৃতিত্ব কেবল তার কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিতিকেই সুপ্রতিষ্ঠিত করেনি, বরং বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়া বিজয়ে শেরপাদের অনন্য ভূমিকার বিষয়টিও আবারও তুলে ধরেছে। প্রতিটি আরোহণের জন্য শুধু শারীরিক সহনশীলতাই নয়, পাহাড়ের ঢালে লুকিয়ে থাকা বিপদগুলো সম্পর্কেও গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন হয়।
সোলুখুম্বু জেলার থামে গ্রামের বাসিন্দা কামি রিতা তার গাইড হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একেবারে তরুণ বয়সে। গত কয়েক দশকে তিনি একজন সাধারণ পোর্টার বা মালবাহক থেকে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, যিনি এখন বরফপাত এবং সংকীর্ণ শৈলশিরা দিয়ে পর্বতারোহী দলকে নেতৃত্ব দেন। তার এই অভিজ্ঞতা সংকটাপন্ন মুহূর্তে অন্যান্য পর্বতারোহীদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে।
এই রেকর্ড সৃষ্টিকারী আরোহণটি এমন এক প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে যখন তীব্র বাতাস এবং আকস্মিক তুষারপাত যাত্রাপথকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছিল। তা সত্ত্বেও কামি রিতা পরীক্ষিত পথ এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। দলের সমর্থন এবং দীর্ঘ বছরের প্রস্তুতির ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরণের সাফল্যের জন্য কেবল শারীরিক শক্তি নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তারও প্রয়োজন। তুষারধস এবং উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ধ্রুব ঝুঁকি প্রতিটি আরোহণকে একটি অনন্য চ্যালেঞ্জে পরিণত করে। কামি রিতার কাছে এটি এখন আর কেবল কোনো খেলা নয়, বরং এক জীবনযাত্রার নাম।



