সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ফুটবল: দক্ষিণ কোরিয়ায় উত্তর কোরিয়ার নারী ফুটবল দলের বিরল সফর

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ফুটবল: দক্ষিণ কোরিয়ায় উত্তর কোরিয়ার নারী ফুটবল দলের বিরল সফর-1

কোরিয় উপদ্বীপে যখন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এক সাধারণ দৃশ্যে পরিণত হয়েছে, তখন একটি ক্রীড়া সফরের খবর অনেকটা উস্কানির মতোই শোনায়। রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই ঘণ্টা আগেই জানা গেছে যে, দীর্ঘ সময় পর উত্তর কোরিয়ার নারী ফুটবল দলটি একটি আনুষ্ঠানিক ম্যাচে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাবে। পূর্ব এশিয়ায় চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটছে, যেখানে যে কোনো পক্ষের সামান্য পদক্ষেপকেও কোনো গোপন উদ্দেশ্য আছে কি না তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়। তবুও কূটনৈতিক চিঠিপত্র নয়, বরং ফুটবলই অপ্রত্যাশিতভাবে এমন এক হাতিয়ার হয়ে উঠছে যা অনেকগুলো তালা দেওয়া দীর্ঘদিনের বদ্ধ দুয়ার খুলে দিতে পারে।

উভয় দেশের কাছেই এই সফরের অর্থ ভিন্ন ভিন্ন। উত্তর কোরিয়া দৃশ্যত এটিকে তাদের 'স্বাভাবিকতা' এবং নারী ক্রীড়াশক্তি প্রদর্শনের একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা দেশটিতে ঐতিহ্যগতভাবেই অগ্রাধিকার পায়। সিউল একে একটি সীমিত সাংস্কৃতিক সংলাপের সুযোগ হিসেবে দেখছে, যা প্রতিবেশীর চরম বিচ্ছিন্নতার ভাবমূর্তিকে কিছুটা নমনীয় করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপগুলো কৌশলগত সমীকরণে খুব একটা পরিবর্তন আনে না ঠিকই, তবে তা দীর্ঘ বছর ধরে সামরিক প্রতিবেদন এবং নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সীমাবদ্ধ থাকা সম্পর্কের মধ্যে একটি মানবিক মাত্রা তৈরি করে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচটির প্রস্তুতি চরম গোপনীয়তার মধ্যে নেওয়া হয়েছে, যা এই আয়োজনের বিশেষত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পুরো ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

দুই কোরিয়ার মধ্যকার ক্রীড়া যোগাযোগ সবসময়ই বিরল ছিল এবং এতে প্রায় সবসময়ই রাজনৈতিক প্রভাব থাকত। ২০১৮ সালে পিয়ংচ্যাং অলিম্পিক গেমসের কথা মনে করলেই তা বোঝা যায়, যখন দুই দেশের অ্যাথলেটরা একই পতাকার নিচে মার্চ করেছিলেন। সেই সময় এটি একটি স্বল্পস্থায়ী আশার আলো জাগিয়েছিল, যা পরবর্তীতে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার চাপে দ্রুত স্তিমিত হয়ে যায়।

বর্তমান সফরটিও সম্ভবত একই যুক্তিতে পরিচালিত হচ্ছে: অবিশ্বাসের খাদের ওপর খেলাধুলা যেন একটি অস্থায়ী সেতু। তবে এবার নারী ফুটবল দলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে—এটি এমন এক ক্ষেত্রে সাফল্যের বহিঃপ্রকাশ যেখানে উত্তর কোরিয়ার নারীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐতিহ্যগতভাবেই দুর্দান্ত ফলাফল করে আসছেন। কেন ফুটবল এই ধরনের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম তা বুঝতে হলে কেবল এমন দুই প্রতিবেশীর কথা কল্পনা করা যথেষ্ট, যারা কয়েক দশক ধরে কথা বলে না, কিন্তু হঠাৎ একদিন বল হাতে উঠানে খেলতে নামে।

তাদের বাড়ির মাঝখানের দেওয়ালটি ঠিকই থেকে যায়, অতীত নিয়ে কথা বলা এখনও অসম্ভব, তবে কয়েক ঘণ্টার জন্য খেলার নিয়মগুলো তাদের সমপর্যায়ে নিয়ে আসে। মাঠে বল গড়ায়, খেলোয়াড়রা একে অপরের দিকে তাকায় এবং গ্যালারি থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়া যায়। এই সাধারণ ব্যবস্থাটি সেই কয়েকটি জিনিসের মধ্যে একটি যা অন্য সবকিছু অচল হয়ে পড়লেও সচল থাকে। Именно так и выглядит нынешний матч: он не отменит санкций, не остановит военные приготовления, но позволит хотя бы на время увидеть друг друга не через прицел пропаганды, а через сетку ворот।

নারী ফুটবল এখানে কেবল একটি খেলা নয়, বরং 'সফট পাওয়ার' বা নমনীয় শক্তির একটি সূক্ষ্ম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে যা আনুষ্ঠানিক বাধাগুলোকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত এই সফরটি এক অদ্ভুত আমেজ রেখে যায়। সিউলের মাঠে খেলোয়াড়রা যখন দৌড়াবে, বিশ্লেষকরা তখন তর্ক চালিয়ে যাবেন যে এটি কোনো কৌশলগত চাল নাকি অন্তহীন সংঘাত থেকে ক্লান্ত হওয়ার প্রথম লক্ষণ। কোরিয় উপদ্বীপের ইতিহাস শেখায় যে, দ্রুত কোনো অগ্রগতির আশা প্রায়ই বিভ্রান্তিকর হয়। তবুও যখন খেলা শুরু হয়, তখন ঘোর সন্দেহবাদীরাও অজান্তেই ভাবতে শুরু করেন—কে জানে, হয়তো এই সাধারণ পাস থেকেই একদিন বড় কোনো কিছুর সূচনা হবে।

77 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • North Korean women's soccer club to make rare visit to South Korea for match

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

"Staggering 90% of biomedical papers now show signs of AI help": Only those who never tried the latest frontier LLMs & are unaware of how good they are must be surprised by this. Soon this will sound as daft as those who opposed the introduction of computers or calculators...

nature
nature
@Nature

The use of AI to write scientific papers could be much more prevalent than was previously thought go.nature.com/4cANxOn

Reply

🚨 NSW Supreme Court just told the state to calm down 👏 Judge rejects putting a guy on a terror watch list over “F*k Israel” graffiti, and calls out the prosecution for treating every Jew as a monolithic Israel fanclub. “You are treating all Jews as monolithic… a statement of

Image
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।