ডিজেল এখন অতীত: চড়া দামের কারণে আফ্রিকার টেলিকম টাওয়ারগুলো যেভাবে সূর্যের দিকে ঝুঁকছে

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

ডিজেল এখন অতীত: চড়া দামের কারণে আফ্রিকার টেলিকম টাওয়ারগুলো যেভাবে সূর্যের দিকে ঝুঁকছে-1

কেনিয়ার ধুলোমাখা প্রান্তর আর নাইজেরিয়ার পাহাড়গুলোতে কয়েক দশক ধরে যে সেল টাওয়ারগুলো ডিজেল জেনারেটরের গর্জনে চলত, সেগুলো এখন নিঃশব্দে আকাশের দিকে নিজেদের সোলার প্যানেল ঘুরিয়ে দিচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। টেলিকম অপারেটররা আন্তর্জাতিক অনুদানের জন্য অপেক্ষা করেনি — তারা স্রেফ খরচ হিসাব করে সূর্যের আলোকেই বেছে নিয়েছে। এটি কেবল কোনো রোমান্টিক পরিবেশবাদী গল্প নয়, বরং কঠোর ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ, যা অপ্রত্যাশিতভাবে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যের সাথে মিলে গেছে।

৩ মে ২০২৬-এর এপি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকান টেলিকম কোম্পানিগুলো সৌরশক্তির দিকে তাদের যাত্রা নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত করেছে। ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে দুর্গম এলাকাগুলোতে জেনারেটর চালানো এখন লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন হাজার হাজার টাওয়ারে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি বসানো হচ্ছে, যা খরচ কমানোর পাশাপাশি সেইসব জায়গাতেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করছে যেখানে আগে জ্বালানি পৌঁছানো ছিল এক বিশাল দুঃসাধ্য কাজ। দৃশ্যত, যেকোনো জলবায়ু সম্মেলনের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তাই এখানে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

আফ্রিকার হাতে বিশ্বের অন্যতম সেরা সৌরশক্তির উৎস রয়েছে এবং এই সম্ভাবনা এখন শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রয়োজনে কাজে লাগানো হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে পুরো একটি খাতের কার্বন নিঃসরণ কমে আসছে, যা দীর্ঘদিন ধরে মহাদেশটির অন্যতম প্রধান ডিজেল ব্যবহারকারী খাত হিসেবে পরিচিত ছিল। তাছাড়া, এটি জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা বাড়াচ্ছে: আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামার ঝুঁকিও কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য দেশগুলোর জন্য একটি আদর্শ মডেল হতে পারে, যেখানে একই ধরনের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে।

উপরের এই পরিসংখ্যানগুলোর পেছনে এক গভীর প্রক্রিয়া কাজ করছে। এমটিএন এবং এয়ারটেলের মতো বড় টেলিকম অপারেটররা এক চিরাচরিত দ্বিধায় পড়েছিল: হয় ডিজেলের জন্য ক্রমাগত বাড়তি খরচ করা, না হয় এমন সরঞ্জামে বিনিয়োগ করা যা সময়ের সাথে মুনাফা ফিরিয়ে দেবে। তারা দ্বিতীয় বিকল্পটিই বেছে নিয়েছে। এটি একটি ধ্রুপদী উদাহরণ যে কীভাবে বাজারের প্রণোদনা কখনো কখনো জলবায়ু রক্ষার অনুপ্রেরণামূলক আহ্বানের চেয়েও বেশি কার্যকর হয়। লক্ষণীয় যে, এই উদ্যোগ সরকার বা কোনো এনজিওর কাছ থেকে আসেনি, বরং কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা ধরে রাখতেই এটি শুরু করেছে।

সাভানার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাধারণ টাওয়ারের কথা ভাবুন। আগে প্রতি সপ্তাহে জ্বালানির ড্রাম নিয়ে সেখানে ট্রাক আসত এবং লাল ধুলো উড়িয়ে দিয়ে যেত। এখন টাওয়ারের ওপর সোলার প্যানেলগুলো নিঃশব্দে কাজ করে এবং রক্ষণাবেক্ষণ বলতে মাসে দু-একবার শুধু ধুলো পরিষ্কার করলেই চলে। কেন এই পরিবর্তন এখন সম্ভব হলো, তা কোনো রিপোর্টের চেয়ে এই ছোট দৃশ্যটিই বেশি ভালো বোঝায়: রোদ নিখরচায় পাওয়া যায়, কিন্তু ডিজেল নয়। জ্বালানি উৎসের এই সাধারণ পরিবর্তন দুর্গম এলাকাগুলোর পুরো লজিস্টিকস এবং অর্থনীতি বদলে দিচ্ছে।

অবশ্যই, চ্যালেঞ্জগুলো এখনো রয়ে গেছে। প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেশি, আর কিছু অঞ্চলে ধূলিঝড়ের কারণে সরঞ্জামগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সুরক্ষার প্রয়োজন হয়। তবে প্রাথমিক তথ্য বলছে যে বর্তমান জ্বালানি মূল্যের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগের টাকা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত উঠে আসছে। এটি একটি ইতিবাচক চক্র তৈরি করছে: ডিজেলের দাম যত বাড়ছে, সৌরবিদ্যুৎ সমাধান তত বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

আফ্রিকায় আজ যা ঘটছে, তা কেবল এই মহাদেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। যদি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো হাতে-কলমে প্রমাণ করতে পারে যে সবুজ রূপান্তর অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক, তবে তা বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার সুর বদলে দেবে। ন্যায়বিচার বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে অন্তহীন তর্কের বদলে এমন এক কার্যকর মডেল সামনে আসবে, যার জন্ম কোনো সম্মেলন কক্ষে নয় বরং বাস্তব প্রয়োজন আর গাণিতিক হিসাব থেকে। আফ্রিকা, যাকে প্রায়ই কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবে দেখানো হয়, তা এখন অপ্রত্যাশিতভাবে সমাধানের এক পরীক্ষাগারে পরিণত হচ্ছে।

সূর্য যতদিন এই মহাদেশকে নিখরচায় আলো দিয়ে যাবে, এই টাওয়ারগুলো নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে: কখনো কখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো কোনো উচ্চকণ্ঠ ঘোষণা দিয়ে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে কোনটি সাশ্রয়ী—এই সহজ প্রশ্নটি থেকেই শুরু হয়।

46 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Africa’s cellphone towers turn to solar as diesel costs surge

মন্তব্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

Korea Aerospace Industries says its AI module on the 12U BEE-1012 CubeSat, launched on Nuri Oct 7, passed an orbital pilot Oct 20. Given a simulated fault, it diagnosed cause and scope and sent back a fix plan. A main demo starts in December. Image Credit: Yonsei University

Image
Reply

Great paper from Anthropic on AI agents doing ML-for-science research. (bookmark it) If you build AI-scientist systems, this one is worth your time. They propose Agent4Sci, which gives frontier coding agents 20 scientific ML benchmarks across 11 domains and asks them to beat

Image
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।