৩ জুন ২০২৬ তারিখে কিউবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী ৬ জুন থেকে কিউবায় ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে সমস্ত লেনদেন বন্ধ করে দিচ্ছে একটি বিদেশি প্রসেসর ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তের ফলে দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনৈতিক প্রবাহে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের জের ধরেই মূলত এ ধরনের বিধিনিষেধের সূত্রপাত। আন্তর্জাতিক অর্থপ্রবাহের পথে কিউবার প্রবেশাধিকার আরও সংকুচিত করতে নেওয়া এই নতুন পদক্ষেপগুলো দেশটির এমনিতেই ভঙ্গুর ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর মূল কারণ হলো ২০২৬ সালের ১ মে জারি করা ট্রাম্পের একটি অধ্যাদেশ, যা মূলত মাধ্যমিক বা 'সেকেন্ডারি' নিষেধাজ্ঞার সাথে সম্পর্কিত।
সাধারণ কিউবানদের জন্য এর অর্থ হলো নানাবিধ ব্যবহারিক সংকট: বিদেশ থেকে আত্মীয়স্বজনের পাঠানো টাকা পাওয়া, আমদানিকৃত পণ্যের দাম মেটানো এবং সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। কার্ড পেমেন্টের ওপর নির্ভরশীল পর্যটন খাত এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই স্থগিতাদেশের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো আগের নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতামাত্র, যেখানে আর্থিক মাধ্যমগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ফলাফল অত্যন্ত দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে—ঘোষণা আসার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই লেনদেনে নানা বিভ্রাট ধরা পড়েছে।
কিউবা ঐতিহাসিকভাবেই বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে বিকল্প পথ তৈরি করে এবং নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভর করে এই বিচ্ছিন্নতার সাথে মানিয়ে নিয়েছে। সেখানে রাশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেম 'মির' (Mir) এবং চীনের 'ইউনিয়ন পে' (UnionPay) কার্ডের পাশাপাশি নগদ লেনদেন সচল থাকবে। তবে বর্তমানের এই বিধিনিষেধ এমন কিছু ক্ষেত্রকে আঘাত করছে যা আগে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত ছিল।
পরিশেষে, ভিসা ও মাস্টারকার্ড পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, কীভাবে বিশ্বব্যাপী আর্থিক নেটওয়ার্কগুলো ভূ-রাজনীতির শিকারে পরিণত হয়ে স্থানীয় জনগণকে চরম সংকটের মুখে ফেলে দেয়। এখানে উল্লেখ্য যে, খোদ পেমেন্ট সিস্টেমগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি—বরং মার্কিন 'সেকেন্ডারি' নিষেধাজ্ঞার ভয়ে বিদেশি প্রসেসর ব্যাংকটিই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।



