২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ১৬ পর্ব ৫ জুলাইও অব্যাহত ছিল—এবং এই খেলার দিনটি টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত দিনে পরিণত হয়েছে। নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিল চাঞ্চল্যকরভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে, আর ইংল্যান্ড একটি কঠিন ও হাই-স্কোরিং ম্যাচে মেক্সিকোকে পরাজিত করেছে। দিনশেষে আরও একটি কোয়ার্টার ফাইনাল জুটি নির্ধারিত হয়েছে: নরওয়ে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
দিনের প্রধান চমক ছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ২-১ ব্যবধানের জয়। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য এই ম্যাচটি শিরোপার পথে আরও একটি ধাপ হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু এর পরিণতি হয় বেদনাদায়ক বিদায়ে। ব্রাজিল দীর্ঘ সময় খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছিল এবং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিল, কিন্তু তারা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টির মুহূর্তটি ছিল উল্লেখযোগ্য: সুযোগ থাকলেও গোল হয়নি।
এই লড়াইয়ের নায়ক ছিলেন আর্লিং হালান্দ। নরওয়েজিয়ান এই ফরোয়ার্ড শেষ মুহূর্তের দুটি গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ইনজুরি টাইমে নেইমার একটি পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও তা যথেষ্ট ছিল না। নরওয়ের এই জয় ছিল ঐতিহাসিক: দলটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে, আর ব্রাজিল তাদের সমর্থকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে।
ব্রাজিলীয় দলের জন্য এই পরাজয় একটি যুগের অবসান হতে পারে। ম্যাচের পর নেইমার ঘোষণা করেন যে, জাতীয় দলের হয়ে তার ক্যারিয়ার শেষ। এটি প্রতীকী যে, ব্রাজিলের হয়ে নিজের শেষ গোলটি তিনি করেন বিদায়ের সেই নাটকীয় সন্ধ্যায়—যখন ম্যাচ বাঁচানো প্রায় অসম্ভব ছিল।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটিও ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। মেক্সিকানদের জন্য এটি ছিল আবেগপূর্ণ একটি ম্যাচ: ঘরের মাঠ, গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের বিপুল সমর্থন এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ। কিন্তু ইংল্যান্ড সেই চাপ সামলে নেয় এবং চূড়ান্ত মুহূর্তে অনেক বেশি নিপুণতা দেখায়।
গোল হজম করার পরেও মেক্সিকো হাল ছাড়েনি এবং শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চ জিইয়ে রেখেছিল, তবে ইংলিশ দল তাদের দৃঢ় মানসিকতা প্রদর্শন করেছে। ইংল্যান্ডের জন্য এই জয় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ: দলটি কেবল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে জানে না, বরং পুরো স্টেডিয়াম বিপক্ষে থাকলেও প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম। এখন ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হতে হবে—এমন একটি দল যারা ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান ফেভারিটকে বিদায় করে দিয়েছে।
৫ জুলাইয়ের সারসংক্ষেপ—দুটি ম্যাচ, দুটি শক্তিশালী গল্প এবং একটি বড় অঘটন। নরওয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা এখন আর কেবল একজন তারকা ফরোয়ার্ডের দল নয়, আর ইংল্যান্ড দেখিয়েছে যে তারা নকআউটের চাপ ও বিশৃঙ্খলা সামলে এগিয়ে যেতে সক্ষম। ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন উত্তজনা যোগ হয়েছে: নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল এখন কেবল আকর্ষণীয়ই নয়, টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে পারে।
এই দিনটি একটি বড় শিক্ষা দিয়ে গেল: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুনাম দিয়ে ফুটবল খেলা যায় না। ব্রাজিল এটি অনেক দেরিতে উপলব্ধি করেছে, নরওয়ে তাদের সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে এবং ইংল্যান্ড তাদের স্বপ্নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।




