আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসি তিনটি গোল করে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন—যা ঠিক মিরোস্লাভ ক্লোজের সমান। ৩৯ বছর বয়সে এই আর্জেন্টাইন কেবল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকই স্পর্শ করেননি, বরং যৌবনে যেভাবে তিনি গতি দিয়ে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করতেন, ঠিক সেই সাবলীলতাতেই তিনি এটি অর্জন করেছেন।
আর্জেন্টিনার জন্য এই ফলাফলটি গ্রুপ পর্বে স্রেফ তিন পয়েন্ট পাওয়ার চেয়েও বেশি কিছু। স্কালোনির দল দীর্ঘদিন ধরে একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই তাদের রণকৌশল সাজিয়ে আসছে, এবং প্রতিপক্ষ মাঝমাঠ অবরুদ্ধ করলেও মেসি ঠিকই দুই লাইনের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেন। আলজেরীয়রা হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও অধিনায়কের পায়ে বল গেলেই সেই চাপ ম্লান হয়ে যেত: হয় তিনি একটি নিখুঁত পাস বাড়াতেন, নয়তো নিজেই আক্রমণ শেষ করতেন।
মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভেবেছিলেন ২০২২ সালের পর মেসি ধীরে ধীরে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়াবেন। এর পরিবর্তে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন যে বয়স তার কাছে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। ৩৫ বছর বয়সের পর অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় তাদের ধার হারিয়ে ফেললেও, এই আর্জেন্টাইন তার খেলার দূরদর্শিতা এবং মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
ক্লোজের সাথে এই তুলনাটি এখানে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই জার্মান ফুটবলার মূলত তার শারীরিক শক্তি এবং পজিশনিং সেন্সের ওপর ভিত্তি করে হেড ও পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে গোল করতেন। অন্যদিকে, মেসি ড্রিবলিং, পায়ের কারুকাজ এবং ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত শটের মাধ্যমে লক্ষ্যভেদ করেন। খেলার ধরন আলাদা হলেও ফলাফল একই—চারটি বিশ্বকাপে ১৬টি গোল।
বিশ্ব ফুটবলের জন্য এটি একটি বার্তা: সুপারটিম এবং আধুনিক রণকৌশলের যুগেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এখনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। স্পন্সর এবং ফেডারেশনগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ অনেক আগে থেকেই তরুণদের প্রাধান্য দিলেও মেসি মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে পরিপক্কতা এবং অভিজ্ঞতা কখনো কখনো যেকোনো পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি মূল্যবান।
ক্লোজের রেকর্ড এখন ভাগাভাগি হয়ে গেল। প্রশ্ন এখন কেবল এটাই যে, ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানানোর আগে মেসি এই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কি না।



