২৬ জুন ব্রিটিশ সাইকেডেলিক রক ব্যান্ড Temples তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম Bliss প্রকাশ করেছে V2 Records লেবেলের অধীনে।
তবে এই অ্যালবামটির প্রকৃত স্বতন্ত্রতা ফুটে ওঠে এর শিল্পীদের নিজের কাজের বর্ণনা দেওয়ার ধরনে।
ঘরানা, কৌশল বা প্রভাবের সাধারণ ছকে অ্যালবামটির বর্ণনা না দিয়ে Temples এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তারা সংগীতের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থা বা অনুভূতির কথা বলছেন যা এই সুরগুলো শ্রোতাদের মনে সঞ্চার করতে চায়।
ফ্রন্টম্যান জেমস ব্যাগশ এবং তার সতীর্থদের মতে, Bliss অ্যালবামটি তৈরি হয়েছে বিপরীতধর্মী আবেগগুলোর মিলনের আকাঙ্ক্ষা থেকে: মৃদু বিষাদ, মনের প্রশান্তি, সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আলো এবং একইসাথে নস্টালজিয়ার এক সূক্ষ্ম আবেশ। তারা এই মানসিক অবস্থাকে বলছেন «melancholic euphoria» বা বিষাদঘেরা পরমানন্দ।
প্রথম দেখায় এই অনুভূতিগুলো পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে। কিন্তু জীবন খুব কমই একরৈখিক হয়। আমরা একইসাথে কৃতজ্ঞতা এবং বিষাদ অনুভব করতে পারি। আনন্দ ও অনিশ্চয়তাও হাত ধরাধরি করে চলতে পারে। কোনো এক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন কিছু শুরুর পূর্বাভাস—ঠিক এই দ্বন্দ্বমুখরতাকেই সংগীতশিল্পীরা Bliss অ্যালবামে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এই অ্যালবামটি তৈরিতে Temples শুধু সাইকেডেলিক রক নয়, বরং ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের ইলেকট্রনিক সংগীত থেকেও অনুপ্রেরণা নিয়েছে। বিশেষ করে Faithless, Underworld, Massive Attack এবং Portishead-এর কাজগুলো তাদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল। সংগীতশিল্পীরা যেন তৎকালীন ড্যান্স কালচারের চশমা দিয়ে সাইকেডেলিক রককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। চেনা ছাঁচে সংগীত তৈরির বদলে তারা এমন একটি আবহ তৈরি করেছেন যেখানে শ্রোতারা শুধু সুর শুনবেন না, বরং নিজের ভেতর একটি বিশেষ অনুভূতি অনুভব করবেন।
অ্যালবামটির নাম—Bliss—তাদের কাছে সাধারণ আভিধানিক অর্থের চেয়েও গভীর কিছু। এটি কোনো চিরস্থায়ী সুখের অবস্থা বা সবসময় তুষ্ট থাকার নাম নয়। এটি হলো পূর্ণাঙ্গ মানসিক সংহতির এক মুহূর্ত, যেখানে মানুষ নিজের অনুভূতির সাথে লড়াই করা বন্ধ করে দেয় এবং সেগুলোকে সহাবস্থানের সুযোগ করে দেয়।
আধুনিক সংগীতের ভাষা কীভাবে বিবর্তিত হচ্ছে তা লক্ষ্য করা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। ক্রমেই অনেক বেশি সংগীতশিল্পী রেটিং বা স্ট্রিম সংখ্যার কথা না বলে, বা শুধু ঘরানার তকমা না এঁটে, সেই মানসিক অবস্থার কথা বলছেন যা তারা শ্রোতাদের পৌঁছে দিতে চান। সুরের মূর্ছনায় মানুষের ভেতরে কী ঘটে, সেটাই এখন মুখ্য হয়ে উঠছে। এটি বর্তমান সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে: সংগীতকে এখন কেবল শিল্প বা বিনোদন হিসেবে দেখা হয় না। এটি হয়ে উঠছে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার এক চারণভূমি—এমন এক জায়গা যেখানে মানুষ একটু থামতে পারে, নিজেকে উপলব্ধি করতে পারে এবং এমন এক অনুভূতির মধ্য দিয়ে যেতে পারে যা প্রকাশের জন্য মাঝে মাঝে শব্দের অভাব পড়ে।
সামগ্রিকভাবে সংগীতকে বোঝার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কী?
সংগীতের ইতিহাস কখনোই কেবল সুর বা শব্দের ইতিহাস ছিল না। এটি মানুষকে বিভিন্ন মানসিক অবস্থায় পৌঁছাতে সবসময় মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিটি সুরের থাকে আলাদা আবেগীয় রঙ, নিজস্ব তাল এবং মেজাজ। ঠিক এই কারণেই কোনো সুর মনকে শান্ত করে, কোনোটি অনুপ্রাণিত করে, কোনোটি বিচ্ছেদ বেদনা সইতে সাহায্য করে, আবার কোনোটি ফিরিয়ে আনে আনন্দের রেশ।
বর্তমানে অনেক বেশি সংখ্যক সংগীতশিল্পী তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে কোন ধরনের অনুভূতি ফুটিয়ে তুলতে চান তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলছেন। তারা কেবল সুর কেমন শোনাচ্ছে তা-ই বলছেন না, বরং এই সুর শ্রোতার হৃদয়ে কোন নতুন জানালা খুলে দিতে পারে তাও ব্যাখ্যা করছেন। আর এখানেই শিল্পের অন্যতম বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য নিহিত।
সংগীত কোনো সুনির্দিষ্ট অনুভূতি কারো ওপর চাপিয়ে দেয় না। বরং এটি এমন এক পরিসর তৈরি করে যেখানে মানুষ নিজের সাথে, নিজের অনুভূতির সাথে এবং নিজের জীবনের সাথে মুখোমুখি হতে পারে।
এই কারণেই সংগীত আজও মানবজাতির অন্যতম সর্বজনীন ভাষা হিসেবে রয়ে গেছে—এমন এক ভাষা যা শব্দ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কথা বলতে পারে।


