প্যারিসের নান্দনিকতায় প্রাণ ফিরে পেল গতানুগতিক গল্প: রোমান্টিক কমেডির ধারাকে নতুন রূপ দিচ্ছে 'ফ্রেঞ্চ লাভার'

লেখক: Svitlana Velhush

ফরাসি প্রেমিক — রাশিয়ান ট্রেলার (সাবটাইটেল, 2025)

নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখুন: শেষ কবে আপনি কোনো রোমান্টিক কমেডি দেখে এর একঘেয়েমিতে বিরক্ত হননি? বছরের পর বছর ধরে হলিউড সেই একই চকচকে মোড়কের গল্প শুনিয়ে আসছে, যেখানে নিখুঁত সব মানুষ নিখুঁত পরিবেশে কেবল কিছু কৃত্রিম সমস্যা সমাধান করে। তবে ফরাসি চলচ্চিত্রের ঝুলিতে এক অনন্য রহস্য রয়েছে। তারা জানে কীভাবে রূপালী পর্দার চরিত্রগুলোকে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে হয়।

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া 'ফ্রেঞ্চ লাভার' (French Lover) সিনেমাটি প্রথম দর্শনে উল্টো রথের সিন্ডারেলা গল্পের মতোই মনে হতে পারে। গল্পের নায়ক আবেল কামারা (অপ্রতিদ্বন্দ্বী ওমর সাই অভিনীত), ফ্রান্সের এক মহাতারকা, যে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরা আর কৃত্রিম হাসিতে ক্লান্ত। অন্যদিকে ম্যারিয়ন (সারা গিরোডু) প্যারিসের শহরতলীর এক ওয়েট্রেস, যার জীবন কাটছে এক যন্ত্রণাদায়ক বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে। একটি ক্যাফেতে তাদের আকস্মিক ঝগড়া এমন এক ঘটনাপ্রবাহের জন্ম দেয়, যা দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত জগতকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এমন কাহিনী তো আমরা 'নটিং হিল'-এও দেখেছি। তাহলে এই নতুন সিনেমাটির বিশেষত্ব কোথায়?

এই চলচ্চিত্রের প্রধান শক্তি হলো এর মধ্যে কোনো অতিরঞ্জিত মিষ্টতা নেই। পরিচালক নিনা রিভস অভিনেতাদের অসাধারণ স্বাভাবিক অভিনয়ের ওপর ভিত্তি করেই পুরো গল্পটি বুনেছেন। ওমর সাই প্রথাগত কোনো চকোলেট বয় বা সুপুরুষের চরিত্রে অভিনয় করার চেষ্টা করেননি। তার আকর্ষণ লুকিয়ে আছে দুর্দান্ত ব্যক্তিত্ব, পরিমিত রসবোধ এবং নিজের আড়ালে সযত্নে রাখা মানসিক দুর্বলতার মাঝে। অন্যদিকে সারা গিরোডুর অভিনীত ম্যারিয়ন চরিত্রটি কোনোভাবেই নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরেনি। নতুন পরিচিত মানুষের তারকা খ্যাতি দেখে সে মোটেও ভড়কে যায় না। সে স্পষ্ট জানে সে কী চায়, আর তাই লাল গালিচার কৃত্রিম চাকচিক্যের জন্য সে নিজের বাস্তব এবং কিছুটা জটিল জীবনকে বিসর্জন দিতে রাজি নয়।

সমকালীন চলচ্চিত্রে ব্যক্তিগত সীমানার ধারণাটি কীভাবে বিবর্তিত হচ্ছে, তা বোঝার জন্য এই গল্পটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফরাসি নির্মাতারা রোমান্টিক কমেডি থেকে 'ত্রাতা' সাজার বিষাক্ত প্রথাটি বাদ দিয়েছেন। এখানে চরিত্রগুলো একে অপরকে একাকীত্ব থেকে উদ্ধার করে না, বরং নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই কীভাবে একসাথে থাকা যায় তা শেখে। রূপকথার চিরাচরিত নিয়মের চেয়ে এখানে মনস্তাত্ত্বিক সত্যতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

শত শত ক্যামেরার নজরদারি আর লাখো মানুষের বিচারবুদ্ধির সামনে কি ভালোবাসা টিকে থাকতে পারে? সিনেমাটি কোনো সহজ উত্তর দেয় না ঠিকই, তবে দর্শকদের মনে এক স্নিগ্ধ অনুভূতি রেখে যায়। এটি একটি সাবলীল ও নান্দনিক চলচ্চিত্র, যা বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে জনসমক্ষে আসা আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যকার ভারসাম্য সম্পর্কে দর্শকদের নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।

81 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Французский любовник — Русский трейлер (Субтитры, 2025)

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।