৩০-এর 'বুড়ি' থেকে ৪৯-এর কনে: চলচ্চিত্রে নারী বয়সের ধারণা যেভাবে বদলে গেল

লেখক: Tatyana Hurynovich

৩০-এর 'বুড়ি' থেকে ৪৯-এর কনে: চলচ্চিত্রে নারী বয়সের ধারণা যেভাবে বদলে গেল-1

'উইকেন্ড উইথ ড্যাডি' সিনেমাটি কি আপনি দেখেছেন? সেখানে একটি অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করার মতো: কনে চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রীর বয়স ৪৯ বছর। সিনেমার কাহিনীতে বয়সের কথা উল্লেখ করা হয়নি—সে কেবল বিয়ে করছে, ব্যাস এতটুকুই। তার পর্দার মা'র বয়স ৬৬ বছর, এবং তিনিও কোনো মামুলি 'দাদীমা' নন, বরং নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত একজন প্রাণবন্ত নারী।

আবার 'পাম রয়্যাল' সিরিজে ৫০ বছরোর্ধ্ব অভিনেত্রী ক্রিস্টেন উইগ এমন একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে উচ্চবিত্ত সমাজে জায়গা করে নিতে মরিয়া। আর কেউ অবাক হয়ে চোখ কপালে তুলছে না: "কীভাবে? ওর তো ৫০ বছর বয়স!" এটা এখন স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়।

১৯৯০-এর দশকে কোনো প্রযোজককে এমন চিত্রনাট্য দেখালে তিনি হয়তো তা সরাসরি নাকচ করে দিতেন। "ভুল", "অযৌক্তিক", "দর্শকরা বিশ্বাস করবে না"—এমন প্রতিক্রিয়াই আসত। বর্তমানে মানুষ তা বিশ্বাস করে। আর এটিই চলচ্চিত্রে ঘটে যাওয়া এক সত্যিকারের বিপ্লব, যা আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে।

যখন ৩০ ছিল এক অভিশাপ

১৯৩০ থেকে ১৯৭০-এর দশকের ধ্রুপদী হলিউড চলচ্চিত্রে নারীর বয়স ছিল কঠোরভাবে নির্ধারিত। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সে ছিল কাঙ্ক্ষিত কনে ও গল্পের প্রধান নায়িকা। ২৫ পেরোলেই সে ছিল "সীমানার ওপর"। আর ৩০ পেরোলে তাকে দেখা যেত "বুড়ি", ফুপু বা মাসি, মা, এমনকি খলনায়িকা হিসেবেও।

তাছাড়া, স্টুডিও সিস্টেমগুলো পরিকল্পিতভাবে অভিনেত্রীদের বয়স নিয়ে মিথ্যা বলত। ডোরিস ডে ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত অবুঝ তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, হেডি লামার ৩৭ বছর বয়সে 'স্যামসন অ্যান্ড ডিলাইলা'-তে ১৯ বছর বয়সীর চরিত্রে অভিনয় করেন, আর অনেক তারকার চুক্তিতে বয়স ৫-১০ বছর কমিয়ে দেখানো হতো।

কাহিনীগুলো ছিল অতি সরল: একজন নারীর জীবনের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বামী খুঁজে পাওয়া। সিনেমার শেষে যদি তার বিয়ে না হতো, তবে তা বিয়োগান্তক পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হতো। ১৯৫০-৬০ এর দশকের ধ্রুপদী কমেডিগুলোর কথা ভাবুন: সব দ্বন্দ্বই আবর্তিত হতো "সে কি বর পাবে?"—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে।

প্রথম পরিবর্তন: ১৯৭০-১৯৯০-এর দশক

নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর সব বদলাতে শুরু করে। ১৯৭০-এর দশকে পর্দায় এমন নারীদের দেখা মিলল যারা চাকরি করতেন, একা থাকতেন এবং বিয়ে করতে তাড়াহুড়ো করতেন না। ১৯৭৭-এর 'অ্যানি হল' ছবিতে ৩১ বছর বয়সে ডায়ান কিটন "বুড়ি" ছিলেন না, বরং ছিলেন নিজেকে খুঁজে ফেরা এক জটিল ও আধুনিক নায়িকা। এটি ছিল নতুন এবং সাহসী এক পদক্ষেপ।

তবে সত্যিকারের বাঁক বদল ঘটে ১৯৯০-এর দশকে। 'সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি' (১৯৯৮) সিরিজটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক ভূমিকম্প। ক্যারি ব্র্যাডশ, সামান্থা, শার্লট এবং মিরান্ডা—সবার বয়স ছিল ৩০-এর ওপরে, এবং তাদের কেউই প্রথাগত অর্থে "অপ্রাপ্তবয়স্ক" বা "বুড়ি" ছিলেন না। তারা এমন নারী ছিলেন যাদের নিজস্ব জীবন ছিল: ক্যারিয়ার, বন্ধুত্ব, যৌনতা এবং ভ্রমণ। সুখ পরিমাপের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিয়ে আর টিকে থাকল না।

'ব্রিজেট জোনস ডায়েরি' (২০০১) ছিল পুরনো প্রথার শেষ নিঃশ্বাস: যেখানে ৩২ বছর বয়সে রেনি জেলওয়েগার এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন যে "বিয়ে হয়নি" বলে তীব্র আতঙ্কে ছিল।

২০১০-এর বিপ্লব: বয়স যখন কেবল একটি সংখ্যা

২০১০-এর দশকে এক আমূল পরিবর্তন ঘটে। 'গার্লস' (২০১২) সিরিজটি ২৫ ঊর্ধ্ব নারীদের কেবল "বর সন্ধানী" হিসেবে নয়, বরং বিভ্রান্ত, মজার এবং প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে ফুটিয়ে তোলে যারা কেবল নিজেদের বুঝে ওঠার চেষ্টা করছে। আর পল রাড ও লেসলি মান অভিনীত 'দিস ইজ ৪০' (২০১২) কমেডিটি সরাসরি বলেছিল: ৪০ মানেই শেষ নয়, বরং এক নতুন পথচলা।

এরপর এল 'ফ্লিব্যাগ', 'কিলিং ইভ' এবং 'বিগ লিটল লাইজ'। ৪০, ৫০, ৬০ বছরের নারীরা আর কেবল "নায়িকার মা" বা "দাদীমা" হয়ে থাকলেন না। তারা তাদের আবেগ, ভুল, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রেম নিয়ে পর্দার মূল চরিত্রে আবির্ভূত হলেন।

২০২০-এর দশক: ৪৯ বছর মানেই নতুন ২৯

এভাবেই আমরা 'উইকেন্ড উইথ ড্যাডি' এবং 'পাম রয়্যাল'-এর পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। বর্তমানে ৪৯ বছর বয়সী একজন অভিনেত্রী কনের চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন এবং তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না। জেনিফার লোপেজ ৫০ বছর বয়সে 'ম্যারি মি' (২০২২) এবং 'শটগান ওয়েডিং' (২০২৩)-এ বিয়ের পিঁড়িতে বসা পপ স্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সান্দ্রা ও ৪৭ বছর বয়সে 'কিলিং ইভ' থ্রিলারে তারকা বনে যান। মিশেল ইয়ো ৬০ বছর বয়সে 'এভরিথিং এভরিহয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স'-এ অস্কার জয় করেন—যেখানে তিনি কেবল অ্যাকশন নায়িকাই ছিলেন না, বরং প্রেম ও আক্ষেপমাখা এক পূর্ণাঙ্গ নারী চরিত্র ছিলেন।

নায়িকাদের মায়ের চরিত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ১৯৯০-এর দশকে কনের মা মানেই ছিল যে কেবল "রান্নাবান্না আর দুশ্চিন্তা" করবেন, কিন্তু আজকের মা নিজের ক্যারিয়ার এবং নতুন প্রেমে মজে থাকা এক স্বাধীন নারী। ৬৬ বছর মানেই "চরম বার্ধক্য" নয়, বরং এক সক্রিয় ও আকর্ষণীয় জীবন।

এটি আমাদের সম্পর্কে কী বলে?

আজ আমরা পর্দায় যা দেখি তা আসলে সমাজের বাস্তব পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। নারীরা এখন দেরিতে বিয়ে করছেন (উন্নত দেশগুলোতে প্রথম বিয়ের গড় বয়স ১৯৬০-এর দশকের ২২-২৪ বছর থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৮-৩২ বছর হয়েছে)। নারীরা এখন দেরিতে মা হচ্ছেন। নারীরা দীর্ঘজীবী হচ্ছেন এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। তারা এখন আর কেবল বিয়ে বা মাতৃত্ব দিয়ে নিজেদের পরিচয় সীমাবদ্ধ রাখতে চান না।

আজ যদি আপনি ৩০, ৪০, ৫০ বা ৬০ বছর বয়সে মনে করেন যে আপনার জীবনে "কিছু একটা ভুল হচ্ছে" বা "সময় পেরিয়ে গেছে"—মনে রাখবেন, মাত্র ৩০ বছর আগে চলচ্চিত্রও আপনাকে ঠিক একই কথা বলত। এবং সেই ধারণা যে কতটা ভুল ছিল তা আজ প্রমাণিত।

বয়স কোনো দণ্ডাদেশ নয়। এটি কেবল একটি সংখ্যা যা এখন আর গল্পের প্রধান বাধা নয়। আপনার জীবনের আসল কাহিনী হলো আপনার বর্তমান সময়কে আপনি কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন।

 

18 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।