«সম্রাজ্ঞী»: ৬.৯/১০, যখন পরিবেশ ডায়নামিকের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। «সম্রাজ্ঞী» সিরিজ থেকে কী আশা করা যায়

লেখক: Svitlana Velhush

সম্রাজ্ঞী, সিজন ১ - রুশ ট্রেলার (সাবটাইটলস) | সিরিজ ২০২২ | Netflix

২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিজ দ্য এম্প্রেস একটি চমৎকার নির্মাণ, যা দর্শকদের তার পরিবেশ ও আবহ দিয়ে মুগ্ধ করে। যদিও সিরিজটি ত্রুটিমুক্ত নয়, তবে এর কাহিনী নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। প্রথম পর্বের গতি কিছুটা ধীর হওয়ায় ভিয়েনার রাজদরবারের জটিল ষড়যন্ত্রগুলো বুঝতে শুরুতে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হয়, যা দর্শকদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

জার্মান ও অস্ট্রিয়ান যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই সিরিজটি কনস্ট্যান্টিন ফিল্ম এবং বেটা ফিল্মের একটি অনন্য কাজ। জার্মানদের স্বভাবসুলভ সূক্ষ্মতা ও খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ এই সিরিজে ফুটে উঠেছে। হফবার্গ প্রাসাদের স্থাপত্যের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট—সবকিছুতেই এক ধরনের জার্মান শৃঙ্খলার ছাপ স্পষ্ট, যা অস্ট্রিয়ান রাজদরবারের জটিলতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

গায়ার রেটিং অনুযায়ী সিরিজটি ১০ এর মধ্যে ৬.৯ পেয়েছে। ঐতিহাসিক ড্রামা হিসেবে এই স্কোর বেশ সম্মানজনক। যদিও গতি বা ডাইনামিকসের অভাব রয়েছে, তবুও চমৎকার পোশাক এবং দীর্ঘস্থায়ী চাহনির মাধ্যমে সিরিজটি তার শৈল্পিক মান বজায় রেখেছে। এটি একটি সফল ঐতিহাসিক ড্রামা, যা তার নিজস্ব শক্তিতে টিকে আছে।

সিরিজের সংলাপগুলো চরিত্রগুলোর গভীরতা এবং রাজদরবারের দমবন্ধ করা পরিবেশকে ফুটিয়ে তুলতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন, মৃত্যু আলাদা করে না, বরং মৃত্যু আমাদের মিলিয়ে দেয়। জীবনই আমাদের বিচ্ছিন্ন করে। এই উক্তিটি সিরিজের বিষণ্ণ ও নিয়তিবাদী সুরকে তুলে ধরে। এটি স্পষ্ট করে যে, চরিত্রগুলোর প্রধান ট্র্যাজেডিগুলো ভাগ্যের কারণে নয়, বরং তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত এবং প্রোটোকলের আড়ালে চাপা পড়া আবেগের কারণে ঘটে।

অন্য একটি সংলাপে এলিজাবেথকে বলতে শোনা যায়, সে আমার সাথে কথা বলছে না, সে আমাকে ক্ষমা করবে না। জবাবে বলা হয়, আমাদের কেবল ঈশ্বরের ক্ষমা প্রয়োজন, এলিজাবেথ। বাকি সবকিছুই অসার। এই কথোপকথনটি চরিত্রগুলোর মধ্যকার বিশাল দূরত্বের প্রতীক। একদিকে মানুষের মানবিক যন্ত্রণা ও হারানোর ভয়, অন্যদিকে ধর্মীয় গোঁড়ামির আড়ালে লুকিয়ে রাখা শীতল ও নিষ্ঠুর বাস্তববাদ। হফবার্গে কীভাবে আন্তরিকতাকে দমন করা হয়, তা এই দৃশ্যে ফুটে ওঠে।

পোশাক নিয়ে একটি সংলাপ যেমন, এই কেমন ডেকোলেটেজ? আমরা ভিয়েনাতে আছি, ভার্সাইতে নয়! এই উক্তিটি অস্ট্রিয়ান রাজদরবারের সাথে প্রধান চরিত্রের সংঘাতকে পুরোপুরি তুলে ধরে। ভিয়েনার শিষ্টাচারের কঠোরতা, রক্ষণশীলতা এবং পোশাকের মতো ছোট বিষয়েও স্বাধীনতার অভাব এখানে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

পরিশেষে বলা যায়, দ্য এম্প্রেস একটি ধীরস্থির এবং উপভোগ্য ঐতিহাসিক সিরিজ। আপনি যদি দ্রুত গতির অ্যাকশনের বদলে ঘটনার ধীর লয় এবং চমৎকার অভিনয়শিল্পীদের দেখতে আগ্রহী হন, তবে এটি আপনার জন্য একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। কোথাও কোথাও এতে গেম অফ থ্রোনসের ছায়াও পাওয়া যায়।

রাজদরবারের ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে এটি অনেকটা ওয়েস্টেরোসের মতো, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ হতে পারে শেষ পদক্ষেপ এবং হাসি বা মিষ্টি কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকে ধারালো খঞ্জর। গেম অফ থ্রোনসে যেমন আয়রন থ্রোন দখলের লড়াই চলে, এখানে তেমনি লড়াই চলে সম্রাটের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং তরুণী সম্রাজ্ঞীকে নিয়ন্ত্রণের জন্য।

তবে এই দুই সিরিজের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যও রয়েছে। দ্য এম্প্রেস মূলত একটি ঘরোয়া বা চেম্বার স্টোরি। এখানে ড্রাগন বা বড় কোনো যুদ্ধের দৃশ্য নেই, কিন্তু বলরুমে চলে স্নায়ুর এক তীব্র যুদ্ধ। গেম অফ থ্রোনস যেখানে মহাকাব্যিক ফ্যান্টাসি, সেখানে দ্য এম্প্রেস হলো একটি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, যেখানে শব্দ, চাহনি এবং শিষ্টাচার মেনে চলা বা ভাঙাই হলো প্রধান অস্ত্র।

91 দৃশ্য

মন্তব্য

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।