কার্টিয়ারের সবচেয়ে পরাবাস্তব আইকনিক ঘড়ি কার্টিয়ার লন্ডন ক্র্যাশ জেনেভায় ক্রিস্টিজ-এর 'রেয়ার ওয়াচেস' নিলামে ১৫,৮৫,০০০ সুইস ফ্রাঁ বা ২০,২৮,৮০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা এর প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে তিন গুণ বেশি এবং এই মডেলের জন্য একটি নতুন বিশ্ব নিলাম রেকর্ড তৈরি করেছে, যা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে হংকংয়ে সোদেবি’স নিলামে প্রায় ১.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হওয়া ১৯৮৭ সালের একটি একই ধাঁচের কার্টিয়ার লন্ডন ক্র্যাশ মডেলের গড়া পূর্ববর্তী রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
১৯৬৭ সালে জাঁ-জাক কার্টিয়ার এবং ডিজাইনার রুপার্ট এমারসন মিলে এই ঘড়িটির যে অবয়ব তৈরি করেছিলেন, তা কার্টিয়ারের ঐতিহ্যবাহী মডেলগুলোর ধ্রুপদী কাঠামোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। ঘড়িটির অপ্রতিসম ও 'গলিত' অবয়ব এবং ডায়ালের বাঁকানো রোমান সংখ্যাগুলো সালভাদর দালির ১৯৩১ সালের বিখ্যাত চিত্রকর্ম "দ্য পারসিস্টেন্স অফ মেমোরি"-র গলিত ঘড়িগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, যদিও এর অনুপ্রেরণার উৎস নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
নিলামে ওঠা ১৯৯০ সালে নির্মিত এই ঘড়িটি একটি নিরেট সোনার কেসিং এবং কার্টিয়ার লন্ডনের লোগো ও হলমার্কযুক্ত একটি সোনার ফোল্ডিং ক্র্যাশ ক্লাস্প দ্বারা তৈরি। ক্রেতার নাম গোপন রাখা হয়েছে।
ক্রিস্টিজ-এর 'রেয়ার ওয়াচেস' নিলাম থেকে মোট ৩,৩০,৫৪,৪৪১ সুইস ফ্রাঁ বা ৪,২৩,০৯,৬৮৪ মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা এই প্রতিষ্ঠানটি দ্বারা আয়োজিত যেকোনো ঘড়ি নিলামের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলাফল। নিলামে ৯৯ শতাংশ লট বিক্রি হয়েছে এবং মোট আয় এর সর্বনিম্ন প্রাক-নিলাম মূল্যায়নের তুলনায় ১৮৮ শতাংশ বেশি ছিল। রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হওয়া সত্ত্বেও কার্টিয়ার লন্ডন ক্র্যাশ এই নিলামে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। প্রথম স্থানটি দখল করেছে প্ল্যাটিনামের তৈরি এফ.পি. জুরন ট্যুরবিলন সভেরিন রেফারেন্স টি ঘড়িটি যা ৩.১ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যে বিক্রি হয়েছে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যের লট ছিল ১৯৩০-এর দশকের অডেমার পিগে-র একটি সিঙ্গেল-বাটন ক্রোনোগ্রাফ 'কুসিন টর্তু' (মডেল নং ৪১ ৮৪৯), যা ২.৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়ে ভিন্টেজ অডেমার পিগে ক্রোনোগ্রাফ হাতঘড়ির ক্ষেত্রে নতুন নিলাম রেকর্ড গড়েছে।
দেখা যাচ্ছে, শৌখিন ঘড়ির বাজার বর্তমানে স্পষ্টভাবেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।



