২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শেষভাগে গবেষকদের হাতে এমন কিছু চিকিৎসা সংক্রান্ত ফাইল এসে পৌঁছায়, যা পেরুর রহস্যময় তিন আঙুল বিশিষ্ট বা ট্রাইড্যাকটাইল প্রাণীর দেহাবশেষের গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। Tridactyls.org ওয়েবসাইটে একটি বিচ্ছিন্ন মাথার খুলির ডিকম (DICOM) ডেটা উন্মুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বড় আকারের ধাতব ইমপ্ল্যান্টের উপস্থিতি স্পষ্ট। একই সাথে জয় নামের একটি অদ্ভুত ডানাওয়ালা প্রাণীর তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে, যাকে পতঙ্গের মতো দেখতে এক ধরনের হিউম্যানয়েড হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। অনুমোদিত বিশেষজ্ঞরা এখন এই ফাইলগুলো বিশ্লেষণ করছেন, যা আগে অগোচরে থাকা অনেক সূক্ষ্ম তথ্য সামনে নিয়ে আসছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ইকার সান লুইস গঞ্জাগা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও কিছু ট্রাইড্যাকটাইল মাথার খুলি পৌঁছায়। গঞ্জালো চাভেজের প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, এগুলোর মধ্যে কয়েকটি খুলিতে অত্যন্ত কৌতূহল উদ্দীপক ধাতব বস্তু রয়েছে। বিশেষ করে একটি খুলি গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যার উপরিভাগে ফিবোনাচ্চি সর্পিল বা জীবনের ফুলের মতো জ্যামিতিক নকশা বিদ্যমান। পর্যবেক্ষকরা এটি নিছক কাকতালীয় নাকি কোনো সুচিন্তিত নকশা তা নিয়ে বিতর্ক করছেন, তবে এই জ্যামিতিক বিন্যাসটি যে গভীর মনোযোগের দাবি রাখে, তা বলাই বাহুল্য।
একই সময়ে ত্রিমাত্রিক তুলনামূলক বিশ্লেষণও শুরু হয়েছে। আধুনিক মানুষের মাথার খুলির মডেলের সাথে নতুন ট্রাইড্যাকটাইল নমুনা এবং গর্ভবতী মন্টসেরাট নমুনার তুলনা করা হচ্ছে। এদের চোখের কোটর, সামগ্রিক আকৃতি এবং অনুপাতের পার্থক্যগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। ধাতব অংশগুলো দেখে মনে হয় না যে সেগুলো কোনো দুর্ঘটনাজনিত সংযোজন, বরং মনে হচ্ছে সেগুলো কোনো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিখুঁতভাবে স্থাপন করা হয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো পূর্ববর্তী গবেষণার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ডক্টর কে.এইচ. ফাং এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হোসে সালসের মতো বিশেষজ্ঞরা মারিয়া এবং মন্টসেরাটের মতো নমুনাগুলোর ওপর সিটি স্ক্যান ও ভার্চুয়াল অটোপসি চালিয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, খুলিগুলো প্রাকৃতিকভাবেই লম্বা এবং মানুষের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি আয়তনের। এগুলোতে কৃত্রিম বিকৃতি বা জোড়াতালির কোনো চিহ্ন নেই। তিন আঙুল বিশিষ্ট হাত ও পায়ে চারটি করে ফাল্যাঞ্জ বা অস্থি রয়েছে এবং জীবদ্দশায় ঘটা আঘাত বা রোগের চিহ্নও পাওয়া গেছে। রেডিওকার্বন ডেটিং অনুযায়ী মারিয়ার বয়স আনুমানিক ১৭৭১ সাল (±৩০ বছর), যা নাজকা সংস্কৃতির সমসাময়িক। ডক্টর রজার জুনিগার নেতৃত্বাধীন দল এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই কঙ্কালগুলো কোনো কৃত্রিম জোড়াতালি নয় এবং এদের ডিএনএ-র কিছু অংশ পৃথিবীর পরিচিত কোনো প্রজাতির সাথে মেলে না।
এই কার্যক্রমগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান গবেষণারই অংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়টি হিউম্যানয়েড নমুনা এবং সংশ্লিষ্ট বস্তুগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডক্টর রজার জুনিগা নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং রেডিওকার্বন ডেটিংয়ের কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং এক ডজনেরও বেশি বিশেষজ্ঞের একটি দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই আবিষ্কারগুলো নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ একে অজানা প্রাণীর প্রমাণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে জটিল শিল্পকর্ম বলে মনে করছেন। তবে এখন যেহেতু এই তথ্যগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ডেটা স্বাধীন বিশ্লেষণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে, তাই আলোচনাটি এখন বাস্তব তথ্যের দিকে মোড় নিচ্ছে। এই ইমপ্ল্যান্টগুলো আসলে কী, এদের গঠন উপাদান কী, হাড়ের সাথে এগুলো কীভাবে কাজ করে এবং কেন একটি খুলিতে এমন সুশৃঙ্খল জ্যামিতিক নকশা পাওয়া গেল—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে প্রশ্নগুলো ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। প্রতিটি নতুন ছবি এবং ডেটা ফাইল সেই রহস্যময় চিত্রের নতুন নতুন অংশ উন্মোচন করছে। তথ্যের এই প্রবাহ যত বাড়ছে, ততই এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে এগুলো কেবল অদ্ভুত কোনো দেহাবশেষ নয়, বরং দক্ষিণ পেরুর মরুভূমিতে ঘটে যাওয়া এমন কোনো ঘটনার সাক্ষী, যা মানব ইতিহাসের প্রচলিত ধারণা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
