২০২৬ সালের মে মাসের শুরুর দিকে মিশরের ফাইয়ুম মরুদ্যান অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমন এক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন যার জন্য তারা কয়েক দশক ধরে অপেক্ষা করছিলেন। আমেনেমহাত ৩-এর পিরামিডের ঠিক পাদদেশে অবস্থিত প্রাচীন কমপ্লেক্সের সম্ভাব্য প্রাণকেন্দ্রে বালুর স্তরের নিচ থেকে একটি বিশাল মেগালিথিক প্রাচীর বেরিয়ে এসেছে। এই বিশালাকৃতির পাথরগুলো সেই কাঠামোর সাথে প্রথম বাস্তব সংযোগ স্থাপন করল যাকে প্রাচীন লেখকরা মানবজাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলে গণ্য করতেন—কিংবদন্তি হাওয়ারা গোলকধাঁধা।
Here it is folks - THE VERY FIRST VIEW of the ACTUAL Labyrinth of Egypt!!!!!!! Mission Hawara is on! We're witnessing the very beginning of the project that will recover our real history. Tim Akers, who carried out the most advanced subterranean scans of the structure, described
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে হেরোডোটাস এটিকে পিরামিডের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এক স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যাতে ছিল হাজার হাজার কক্ষ, গোলকধাঁধার মতো করিডোর, বিভিন্ন তলার হলঘর, সব মিশরীয় দেবদেবীর মন্দির এবং বর্ণনাতীত অসংখ্য মূর্তি ও শিল্পকর্ম। অনেক গবেষকের কাছে এটি কেবল একটি রাজকীয় সমাধি ছিল না, বরং তার চেয়েও বেশি কিছু—প্রাচীন কোনো আর্কাইভ বা ‘হল অফ রেকর্ডস’-এর মতো এক রহস্যময় জ্ঞানভাণ্ডার, যেখানে সুদূর অতীতের স্মৃতি সংরক্ষিত থাকতে পারে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই গোলকধাঁধা বালু আর ভূগর্ভস্থ পানির নিচে অতল গহ্বরে ঢাকা পড়ে ছিল। ফ্লিন্ডার্স পেট্রি সহ উনবিংশ শতাব্দীর খননকার্যে মূলত পরবর্তী সময়ের সাধারণ ইটের তৈরি কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। আধুনিক যুগের অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায় শুরু হয় ২০০০-এর দশকে। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে লুই ডি কর্ডিয়ারের নেতৃত্বে বেলজিয়াম মাটাহা এক্সপেডিশন এবং একটি পোলিশ-মিশরীয় দল সেখানে জিওরাডার ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক জরিপ পরিচালনা করে। সেই গবেষণার ফলাফলগুলো পিরামিডের নিচে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ কাঠামো, সুড়ঙ্গ এবং বহুতল বিশিষ্ট একটি কমপ্লেক্সের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে ১৮২০ সালে খনন করা একটি পুরনো খাল এবং ক্রমবর্ধমান ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য ধ্বংসের বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
২০১৪-২০১৫ সালে টিমোথি অ্যাকার্সের কাজসহ অতিরিক্ত স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্যালারি, বিশেষ কিছু বস্তু এবং সম্ভাব্য গুদামঘরের হদিস পাওয়া যায়। এই তথ্যগুলো কমপ্লেক্সটিকে প্রাচীন জ্ঞানের এক প্রকৃত সংগ্রহশালা বা ‘রিপোজিটরি’ হিসেবে দেখার ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে। ২০২৫-২০২৬ সালের মধ্যে আর্কিওলজিক্যাল রেসকিউ ফাউন্ডেশন, মাটাহা ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সাইটটি রক্ষার জন্য একটি বিস্তারিত ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করা হয়। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়।
আর আজ, ২০২৬ সালের মে মাসে সেই স্বপ্ন বাস্তব হতে চলেছে। গোলকধাঁধার কেন্দ্রীয় এলাকায় খনন চালিয়ে দলটি বিশাল এক পাথরের গাঁথুনির নাগাল পেয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে প্রাচীন পিরামিডের বিপরীতে বালুর ভেতর থেকে বিস্ময়কর সব পাথরের ব্লক উঁকি দিচ্ছে। এটি পরবর্তী সময়ের কোনো সাধারণ ভিত্তি নয়; বরং এর নির্মাণশৈলী ইঙ্গিত দিচ্ছে এক বিশাল ও সুপরিকল্পিত স্থাপত্যের যা আজও তার গোপন রহস্য বুকে চেপে রেখেছে।
এই প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। গোলকধাঁধাটি যদি আংশিকভাবেও অক্ষত থাকে, তবে প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় স্মৃতিস্তম্ভকে স্পর্শ করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হবে আমাদের সামনে। সামনে রয়েছে পানি নিষ্কাশন, নিখুঁত নথিপত্র তৈরি, নতুন দফার স্ক্যানিং (গিজার অভিযানের পর যেখানে ফিলিপো বিয়োন্ডি অংশ নেবেন) এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা নিদর্শনের রহস্য ধাপে ধাপে উন্মোচন করার কাজ।
আপাতত এটি কেবল একটি দীর্ঘ যাত্রার সূচনা। তবে ফাইয়ুমের বালু থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি পাথর প্রাচীন সেই কিংবদন্তিকে আরও জোরালো ভিত্তি দিচ্ছে এবং মনে করিয়ে দিচ্ছে যে মিশরীয় সভ্যতা এবং তারও আগের সম্ভাব্য সভ্যতাগুলোর ইতিহাস কতটা গভীর ও রহস্যময় হতে পারে। অভিযানের পরবর্তী পর্যায়গুলো পুরনো সব অমীমাংসিত প্রশ্নের নতুন উত্তর নিয়ে আসবে বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা আশাবাদী।

