কর্ডোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে বন্যপ্রাণী সম্পর্কিত কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিওগুলি দর্শকদের পশুদের আসল আচরণ এবং বাস্তুতন্ত্রে তাদের স্থান সম্পর্কে ক্রমবর্ধমানভাবে বিভ্রান্ত করছে।
GESBIO গ্রুপের বিজ্ঞানীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ভিডিওগুলি বিশ্লেষণ করে সাধারণ বিকৃতিগুলি খুঁজে পেয়েছেন: একটি চিতাবাঘ, যে শান্তভাবে একটি উঠোনে একটি শিশুর সাথে খেলছে, বা একটি গৃহপালিত বিড়াল, যে একটি শিকারীকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। এই দৃশ্যগুলি কেবল অবিশ্বাস্যই নয় — এগুলি পশুদের এমন মানবিক বৈশিষ্ট্য এবং সম্পর্ক আরোপ করে যা প্রকৃতিতে বিদ্যমান নেই।
গবেষণা অনুসারে, এই ধরনের ভিডিওগুলি মানুষ এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যে ইতিমধ্যেই লক্ষণীয় ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পর্দায় বিপন্ন প্রজাতিগুলিকে প্রচুর এবং সহজলভ্য বলে মনে হয়, যা তাদের বিলুপ্তির আসল হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা হ্রাস করে। ফলস্বরূপ, জনসাধারণের মনোযোগ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মসূচির জন্য সমর্থন দুর্বল হতে পারে।
গবেষণার লেখকরা জোর দিয়েছেন: সমস্যাটি প্রযুক্তির মধ্যে নয়, বরং লেবেলিং এবং মিডিয়া সাক্ষরতার অভাবের মধ্যে রয়েছে। শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্করা, আসল প্রকৃতির সাথে যোগাযোগের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়াই, ভুয়া তথ্যকে ডকুমেন্টারি ফুটেজ হিসাবে গ্রহণ করে এবং প্রাণীদের আচরণের ভুল ধারণা গঠন করে।
গবেষণাটি Conservation Biology জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে — জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এআই-জেনারেটেড বিষয়বস্তুর প্রভাব অধ্যয়ন। বিজ্ঞানীরা চাক্ষুষ তথ্যের সমালোচনামূলক উপলব্ধি বিকাশের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
প্রকৃতিকে রক্ষা করার জন্য, বাস্তব পর্যবেক্ষণগুলিকে ডিজিটাল বিভ্রম থেকে আলাদা করা এবং পশুদের তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে দেখানো প্রকল্পগুলিকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ।

