২০২৬ সালের ৫-৬ আগস্ট স্বর্ণের বাজারে দেখা দেওয়া উচ্চ মাত্রার অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক খবর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের এক জোরালো প্রভাব। এক দিনেই ৩.৯৩% মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,২৩৮.৩২ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
বর্তমান এই বাজার দরকে প্রভাবিত করছে এমন তিনটি প্রধান কারণ নিচে দেওয়া হলো:
১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির সন্ধিক্ষণ (ভূ-রাজনীতি)
২০২৬ সাল জুড়েই মার্কিন-ইরান দ্বন্দ্ব এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য সরবরাহের ঝুঁকি নিয়ে বাজারের পরিস্থিতি ছিল টালমাটাল। তবে ৫ আগস্ট বুধবার অভ্যন্তরীণ কিছু খবরে জানা গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে। অদ্ভুতভাবে এই সংবাদের মাঝে সোনা ও রূপার ফিউচার মার্কেটে দাম হু হু করে বেড়ে যায় (স্বর্ণের দাম ৩.৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়)। বিনিয়োগকারীরা জরুরি ভিত্তিতে বৈশ্বিক ঝুঁকি, ডলারের বিনিময় হার এবং তেলের দাম পুনরায় মূল্যায়ন করতে শুরু করেন, যার ফলে মূলধন দ্রুত নিরাপদ সম্পদে (সেফ হ্যাভেন) স্থানান্তরিত হতে শুরু করে।
২. মার্কিন সামষ্টিক পরিসংখ্যান এবং ফেড নিয়ে উদ্বেগ
৫ আগস্ট বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়: এর মধ্যে ছিল এডিপি (ADP) কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং পরিষেবা খাতের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্সের (PMI) চূড়ান্ত তথ্য। বর্তমানে স্বর্ণ ৩,৯৫০ থেকে ৪,২০০ ডলারের একটি ছয় সপ্তাহের সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে রয়েছে এবং মার্কিন শ্রমবাজার সম্পর্কিত যেকোনো তথ্যের প্রতি এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাজারের এখনও মনে আছে যে, গত সপ্তাহে বেকারত্ব সংক্রান্ত ইতিবাচক তথ্যের কারণে সুদের হার চড়া থাকার আশঙ্কায় এই ধাতুর দাম কমে গিয়েছিল। এখন ব্যবসায়ীরা ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) নীতি সহজ করার যেকোনো ইঙ্গিতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং প্রতিটি নতুন তথ্য বাজারে উত্থান-পতনের এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করছে।
৩. রুশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিত ক্রয়
আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বর্ণের দামে বাড়তি সমর্থন যোগাচ্ছে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি আগেই জানিয়েছিল যে, তারা বাজেট বিধি অনুযায়ী ৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন ৫.৪ বিলিয়ন রুবল সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা ক্রয় করবে। এটি ভৌত ধাতুর (physical metal) বাজারে একটি স্থিতিশীল চাহিদার যোগান দিচ্ছে।
উপসংহার: বর্তমান বাজার এটা বোঝার চেষ্টা করছে যে, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মুদ্রানীতির পর্যায় শেষ হয়েছে কি না, নাকি মুদ্রাস্ফীতির কারণে তারা আরও দীর্ঘ সময় সুদের হার চড়া রাখতে বাধ্য হবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো খবর বা ফেড কর্মকর্তার আকস্মিক কোনো মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে বাজারদরে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করছে।




