নাইজেরিয়ার পরিবারগুলোতে, যেখানে প্রতিটি ডলারই অতি মূল্যবান, সেখানে বিদেশের অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বা অতিরিক্ত ফি প্রদান করা এখন অনেকেই এড়িয়ে চলতে চান। এর পরিবর্তে তারা বেছে নিচ্ছেন মার্কিন ডলারের সাথে সংযুক্ত স্থিতিশীল ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্টেবলকয়েন। ২০২৬ সালের ১৬ জুন প্রকাশিত আইএমএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রবণতাটি এখন আর কোনো সামান্য বিষয় নয়, বরং এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নাইজেরিয়ায় প্রায় ৫৯ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হয়েছে। সাহারা-নিম্ন আফ্রিকান দেশগুলোতে আসা মোট স্টেবলকয়েন প্রবাহের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল নাইজেরিয়ায়। এর কারণ খুবই সাধারণ: প্রথাগত মাধ্যমে অর্থ পাঠানো বেশ ব্যয়বহুল—এই অঞ্চলে ২০০ ডলার পাঠাতে গড়ে ৯ শতাংশ খরচ হয়, যেখানে বিশ্বব্যাপী এই খরচের গড় হার ৬ শতাংশ।
স্টেবলকয়েনের দ্রুত গতি এবং নির্ভরযোগ্যতা মানুষকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রায় মুহূর্তেই অর্থ পাঠানো সম্ভব হয় এবং অস্থির নাইরা মুদ্রার বাইরে সঞ্চয় রাখার সুবিধাটিও অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য এটি তাদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার এবং বিদেশের অংশীদারদের সাথে দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করার একটি কার্যকর উপায়, বিশেষ করে যখন স্থানীয় মুদ্রার মান ক্রমাগত কমছে।
তবে এই সুবিধার আড়ালে কিছু পদ্ধতিগত ঝুঁকিও রয়েছে। ডলার-ভিত্তিক টোকেনের প্রতি এই ব্যাপক ঝোঁক নাইরার চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি পরিচালনার ক্ষমতাকে দুর্বল করে তোলে। তাছাড়া, ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন তদারকি করা যেমন কঠিন, তেমনি এটি অবৈধ অর্থ প্রবাহের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়। আইএমএফ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
এক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ ভিন্নমুখী। আত্মীয়-স্বজনকে টাকা পাঠানো বা আমদানির মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি স্বল্প খরচ ও দ্রুত গতির সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্র তার মুদ্রা এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর সংকটে পড়ছে। এটি একটি ধ্রুপদী উদাহরণ যেখানে প্রথাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি করা শূন্যস্থান প্রযুক্তিগত সমাধান পূরণ করছে।
নাইজেরিয়ায় স্টেবলকয়েনের ব্যবহার দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সরকারি মাধ্যমগুলো যখন অতিরিক্ত ব্যয়বহুল বা অনির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে, তখন ডিজিটাল সরঞ্জামগুলো কীভাবে অর্থের প্রচলিত পথ বদলে দিতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, যারা ইতিমধ্যে নিজেদের আর্থিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন, তাদের আস্থা না হারিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কি পারবে নতুন নিয়মের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে?



