❓ প্রশ্ন:
আমি বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী এবং কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের প্রতি প্রবল মমতা ও করুণা অনুভব করি। তাদের দিকে তাকালে আমার মনটা হাহাকার করে ওঠে। আমি বুঝতে পারি যে তারা প্রত্যেকেই নিজেদের স্রষ্টা এবং এই পথ তারা নিজেরাই বেছে নিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও, তাদের প্রতি শান্ত ও স্বচ্ছভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো আমার পক্ষে এখনও সম্ভব হচ্ছে না। আমার বিশ্বাস, পরম সত্তার এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি আছে যেখান থেকে এই সব মানুষ এবং পরিস্থিতিকে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও আনন্দদায়ক মনে হয়। তবে সেই দৃষ্টিভঙ্গি আমি এখনও খুঁজে পাচ্ছি না। আপনি কি এ বিষয়ে কোনো সমাধান বা সূত্র দিতে পারেন?
❗️ উত্তর (লি):
পরম সত্তার বা সোর্সের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিটি মানুষের ভেতরেই বিদ্যমান। আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ অহং বা ইগোর মাধ্যমে একে ব্যাখ্যা করে। আপনি যা অনুভব করছেন, যে ব্যক্তির দিকে আপনি তাকাচ্ছেন তিনি মোটেও তা অনুভব করছেন না। আপনি তার প্রতি করুণা বোধ করছেন, অথচ তার অনুভূতি হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন। আপনার এই অনুভূতি একান্তই আপনার নিজস্ব। এর সাথে অন্য ব্যক্তির আসলে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
অন্যভাবে বললে, আপনি মূলত আপনার নিজের বিশ্বাসগুলোকেই অনুভব করছেন, আর অন্য মানুষটিকে কেবল নিজের সেই অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি দেখার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
তাই আপনার হৃদয়ে থাকা সেই পরম সত্তা আপনার প্রতিক্রিয়ার বিষয়েই বেশি সচেতন, আপনি কী দেখছেন তার ওপর নয়।
আপনি যা দেখছেন, পরম সত্তা তা ভেতর থেকেই জানেন, কারণ তিনি নিজেই এর স্রষ্টা এবং তিনিই তা অনুভব করছেন। আর অনুভবকারী হিসেবে তিনি আপনার এই করুণাকে অন্যের জন্য ‘কল্যাণকর’ হিসেবে নয়, বরং আপনার ‘বিশ্বাসের ত্রুটি’ হিসেবেই দেখেন।
অন্য কোনো ব্যক্তি কেন নিজেকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছেন, তার প্রকৃত কারণ আপনার জানা নেই। হয়তো কেউ কেবল আপনার ভেতরের সেই করুণাকেই আপনার সামনে প্রতিফলিত করার জন্য এই অবস্থায় আছেন... অথচ তিনি আপনার সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এটি তার পক্ষ থেকে আপনার জন্য একটি উপহার, যা আপনাকে আপনার নিজের ভাবনার প্রতিফলন দেখার সুযোগ করে দেয়।
আপনার সচেতনতার পরবর্তী স্তর আপনাকে প্রকৃত সহমর্মিতার দিকে নিয়ে যাবে, যা কেবল সমবেদনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। আপনি অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারবেন, কিন্তু তাতে নিজে কষ্ট পাবেন না। তখন আপনি ভালোবাসাকেই সাহায্যের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন, যাতে আপনার সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে অন্য ব্যক্তি সেই ভালোবাসা অনুভব করতে পারেন।
এই প্রক্রিয়াটি এমনভাবে কাজ করবে যে, অন্য ব্যক্তির ভেতরের পরম সত্তা আপনার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা অনুভব করবে (যে ভালোবাসায় কোনো কষ্ট নেই, অন্যথায় তা প্রকৃত ভালোবাসা নয়), এবং তা তার হৃদয়েও সক্রিয় হয়ে উঠবে যাতে সে নিজের ভেতরের উৎসকে খুঁজে পায়। অর্থাৎ, আপনি একটি টিউনিং ফর্কের মতো অন্যের মধ্যে ভালোবাসার কম্পন বাড়িয়ে দেবেন, যা তাকে ভালোবাসার উচ্চতর অনুভূতিতে উন্নীত হতে সাহায্য করবে। নেতিবাচকতার লেশমাত্র ছাড়াই নিজের আনন্দের মধ্য থেকে অন্যের সেবা করার এটাই হলো প্রকৃত পথ।




