নতুন বাড়িতে এক খুদে শিকারি: বিড়ালছানা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স এবং তার মানিয়ে নেওয়ার উপায়

লেখক: Svitlana Velhush

নতুন বাড়িতে এক খুদে শিকারি: বিড়ালছানা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স এবং তার মানিয়ে নেওয়ার উপায়-1

বাড়িতে নতুন বিড়ালছানা আসা মানেই আনন্দের জোয়ার আর একরাশ ভালো লাগা। তবে ওই ছোট্ট পশমগোলা প্রাণিটির জন্য নতুন পরিবেশে আসা প্রচণ্ড মানসিক চাপের বিষয়। সে তার মা, চেনা ঘ্রাণ এবং ভাইবোনদের ছেড়ে এক অজানা ও ভয়ংকর দানবদের জগতে এসে পড়ে।

নতুন বাড়িতে এক খুদে শিকারি: বিড়ালছানা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স এবং তার মানিয়ে নেওয়ার উপায়-1

এই পরিবর্তন যেন সহজ হয় এবং বিড়ালছানাটি যেন দ্রুত নিজেকে ওই জায়গার মালিক মনে করতে পারে, সেজন্য বিড়ালছানা নেওয়ার সঠিক বয়স এবং মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা জরুরি।

নতুন বাড়িতে এক খুদে শিকারি: বিড়ালছানা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স এবং তার মানিয়ে নেওয়ার উপায়-2

বিড়ালছানা নেওয়ার সেরা বয়স কোনটি?

অনেক নতুন পালকের মাঝে একটি ভুল ধারণা আছে: "যত দ্রুত বিড়ালছানা নেওয়া হবে, সে তত তাড়াতাড়ি আমাদের সাথে মিশে যাবে এবং আমাদের মা মনে করবে।" এটি আসলে একটি বিপজ্জনক ভুল ধারণা।

নতুন বাড়িতে নেওয়ার জন্য আদর্শ বয়স হলো ৩ থেকে ৪ মাস (১২–১৬ সপ্তাহ)।

কেন ১–২ মাস বয়সে বিড়ালছানা নেওয়া উচিত নয়?

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ২–২.৫ মাস পর্যন্ত বিড়ালছানা মায়ের দুধ থেকে অ্যান্টিবডি পায়। সময়ের আগে আলাদা করলে সে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অসহায় হয়ে পড়ে। ৩ মাসের মধ্যে তার টিকাদান সম্পন্ন হওয়া উচিত (প্রথম টিকাটি ৮ সপ্তাহে, দ্বিতীয়টি ১২ সপ্তাহে দেওয়া হয়, যার পর কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শুরু হয়)।
  • সামাজিকীকরণ। মা ও ভাইবোনদের সাথে থাকার মাধ্যমে তারা কামড়ের জোর নিয়ন্ত্রণ করা, নখ বের করা এবং শরীরের ভাষা বুঝতে শেখে। খুব ভোরে আলাদা করা বিড়ালছানারা বড় হয়ে আক্রমণাত্মক বা খুব ভীতু হতে পারে, এমনকি তাদের আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
  • শৌচাগারের অভ্যাস। ৩ মাস বয়সের মধ্যে বিড়ালছানারা সাধারণত মায়ের কাছ থেকে দেখে লিটার বক্স ব্যবহার করা শিখে যায়।

মাত্র ১.৫ মাস বয়সে বিড়ালছানা নেওয়া কেবল জরুরি অবস্থাতেই সম্ভব (যেমন মা মারা গেলে), এবং সেক্ষেত্রে আপনাকে পুরোপুরি মায়ের ভূমিকা পালন করতে হবে: বিশেষ মিশ্রণ খাওয়ানো থেকে শুরু করে হজমে সাহায্য করা এবং উষ্ণতা দেওয়া পর্যন্ত।

ঘর প্রস্তুতি: সবার আগে নিরাপত্তা

বিড়ালছানা বাড়িতে আনার আগে ঘরকে বিড়ালের জন্য নিরাপদ করে তুলতে হবে। তারা মুখ দিয়ে এবং স্পর্শের মাধ্যমে জগতকে চেনে, তাই আপনার কাজ হলো সম্ভাব্য সব বিপদ সরিয়ে ফেলা।

  • বৈদ্যুতিক তার লুকিয়ে ফেলুন। নাগালের মধ্যে থাকা সব তার পাইপের ভেতরে বা নাগালের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে।
  • ছোটখাটো জিনিস সরিয়ে রাখুন। সুই, সুতা, হেয়ার ব্যান্ড, ছোট খেলনা—যা গিলে ফেলা সম্ভব এমন সব কিছু ড্রয়ারে রাখুন। সুতা বিশেষ করে বিপজ্জনক কারণ এটি অন্ত্রে গুরুতর আঘাত করতে পারে।
  • গাছপালা পরীক্ষা করুন। অনেক ইনডোর প্ল্যান্ট (লিলি, অ্যাজেলিয়া, ফিকাস) বিড়ালের জন্য বিষাক্ত। সেগুলো উঁচু তাকে রাখুন অথবা পরিচিত কাউকে দিয়ে দিন।
  • জানালায় নিরাপত্তা। জানালায় বিশেষ 'অ্যান্টি-ক্যাট' নেট ব্যবহার করুন। সাধারণ মশারি বিড়ালের নখ বা ওজন সহ্য করতে পারবে না।

শুরুর দিনগুলো: মানিয়ে নেওয়ার উপায়

মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক দিন থেকে ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রথম দিন আপনার প্রধান কাজ হলো তাকে অযথা বিরক্ত না করে শান্ত রাখা।

১. একটি 'নিরাপদ এলাকা' তৈরি করুন। বিড়ালছানাটিকে শুরুতেই সারা ঘরে ঘুরতে দেবেন না, এতে সে ভয় পেতে পারে। একটি ছোট ঘর বা নির্দিষ্ট জায়গা বেছে নিন যেখানে তার লিটার বক্স, খাবার এবং বিছানা থাকবে। তাকে এইটুকু জায়গার সাথে আগে অভ্যস্ত হতে দিন।

২. লুকিয়ে থাকার সুযোগ দিন। বিড়ালছানা যদি সোফার নিচে বা আলমারির আড়ালে লুকিয়ে থাকে, তবে তাকে জোর করে বের করবেন না। এটি তার আশ্রয়স্থল। তার কাছে পানি এবং লিটার বক্স রাখুন। সে ক্ষুধার্ত হলে বা নিরাপদ মনে করলে নিজ থেকেই বেরিয়ে আসবে।

৩. পরিচিত ঘ্রাণের গুরুত্ব। বিড়ালছানা যেখান থেকে আনছেন সেখান থেকে এমন একটি কাপড় বা বিছানা আনুন যাতে তার মা এবং আগের বাড়ির ঘ্রাণ আছে। এটি তার নতুন বিছানায় রাখুন; পরিচিত ঘ্রাণ তার মানসিক চাপ অনেকটা কমিয়ে দেবে। এছাড়া আপনার ব্যবহৃত টি-শার্টও তার বিছানায় রাখতে পারেন যেন সে আপনার গায়ের ঘ্রাণে অভ্যস্ত হয়।

৪. শান্ত পরিবেশ। প্রথম কয়েক দিন জোরে গান বাজানো, হট্টগোল বা শিশুদের সাথে খুব বেশি খেলাধুলা বন্ধ রাখুন। তাকে শান্তিতে ঘুমাতে এবং চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে দিন।

খাবার, লিটার এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরুরি বিষয়

  • পুষ্টি। প্রথম দুই সপ্তাহ আগের জায়গায় দেওয়া খাবারই দিন। হুট করে খাবার পরিবর্তন করলে এবং যাতায়াতের চাপের কারণে পেটের সমস্যা হতে পারে। খাবার পরিবর্তন করতে চাইলে ৭-১০ দিন ধরে নতুনের সাথে পুরনো খাবার মিশিয়ে ধীরে ধীরে তা করুন।
  • লিটার বক্স। তাকে জোর করে লিটার বক্সে ঘষবেন না বা পা দিয়ে ঘষা শেখাতে যাবেন না। ঘুমের পর বা খাওয়ার পর তাকে আলতো করে সেখানে নিয়ে যান এবং শুঁকতে দিন। তার সহজাত প্রবৃত্তি এবং আগের ঘ্রাণই তাকে পথ দেখাবে।
  • পশু চিকিৎসক। ৩-৪ মাসের বিড়ালছানার সাধারণত টিকা দেওয়া থাকে। যদি না থাকে, তবে প্রথম সপ্তাহেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করান এবং কৃমিমুক্ত করার ওষুধ ও টিকার সময়সূচী ঠিক করুন।

সহজভাবে মানিয়ে নেওয়ার একটি কৌশল

যদি দেখেন বিড়ালছানাটি খুব বেশি ঘাবড়ে যাচ্ছে (ফুসফুস করছে, কাঁপছে বা দ্বিতীয় দিনেও খাচ্ছে না), তবে দোকান থেকে বিড়ালের জন্য ফেরোমোন কিনতে পারেন। এটি প্লাগে লাগিয়ে দিলে এমন এক রাসায়নিক ছড়ায় যা বিড়ালকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করে। মানুষের নাকে এটি ধরা পড়ে না, কিন্তু বিড়ালদের কাছে এটি হলো "এখানে নিরাপত্তা আছে" এমন একটি সংকেত।

বিড়ালছানার খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মালিকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো ধৈর্য। প্রথম দিনেই সে আপনার কোলে এসে আহ্লাদ করবে—এমনটা আশা করবেন না। তাকে সময় দিন, তার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিন এবং শীঘ্রই এই ছোট্ট প্রাণীটি আপনার বাড়ির প্রকৃত মালিক হয়ে উঠবে যে দরজায় এসে আপনাকে স্বাগত জানাবে।

39 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।