❓প্রশ্ন:
আপনি বলেছিলেন যে পৃথিবীতে জন্ম নিতে বা মূর্ত রূপ ধারণ করতে অহং বা ইগোর প্রয়োজন। জীবনের পর চেতনার কি অন্য কোনো ধরণের দেহ ধারণ করার বিকল্প থাকে না, তা না হলে জীবনকে পুনরায় পর্যবেক্ষণ করার উপায় কী? যারা যথেষ্ট উন্নত হয়েছেন, তারা কি পরবর্তী জীবন আরও সচেতনভাবে বেছে নিতে পারেন? তার মানে কি সেই স্তরেও কোনো ধরণের অহংয়ের অস্তিত্ব থাকে? অভৌত জগতের বিষয়টিই বা কী? যেকোনো অবস্থান যেখানে পার্থক্য বা বিভাজন আছে, সেখানে কি ‘আমি-নয়-আমি’ এমন একটি বিন্দু বা বোধের প্রয়োজন হয় না, এমনকি অন্য কোনো স্তরে ‘সবই এক’ এমন উপলব্ধি থাকলেও?
❗️উত্তর:
অহং হলো ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি প্রক্রিয়া। এটি এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব নিজেই আত্মপ্রকাশ করে।
এর তুলনা দেওয়া যেতে পারে নকশা এবং যন্ত্রাংশ থেকে একটি গাড়ি তৈরির সাথে।
একজন প্রকৌশলী যেমন অসংখ্য গাড়ির নকশা করতে পারেন, তেমনি আত্মাও চাইলেই অসংখ্য ব্যক্তিত্বের রূপরেখা তৈরি করতে পারে।
কিন্তু চলাচলের জন্য একটি বাস্তব গাড়ির প্রয়োজন হয়। ঠিক তেমনি, পৃথিবীতে মূর্ত হতে হলে একটি বাস্তব অহং থাকা আবশ্যক।
এটাই হলো এর মূল দায়িত্ব।
এরপর অহংয়ের নিজস্ব বিবর্তনের পথ শুরু হয়—এমন এক অবস্থায় পৌঁছানো যেখানে এটি আর কোনো সীমাবদ্ধতা তৈরি করে না। এটিই তখন “উন্নত অহং” - এর সীমানা এতটাই সূক্ষ্ম হয়ে যায় যে আত্মা “অহংয়ের মধ্য দিয়ে” অবলোকন করে। জাগতিক বা দৈহিক রূপের চূড়ান্ত অবস্থা হলো সেই অহং, যা এর “নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা” সম্পূর্ণভাবে “হায়ার সেলফ” বা পরম সত্তার হাতে সঁপে দিয়েছে। “হায়ার সেলফ” বা পরম সত্তা বলতে বোঝায় আত্মার সেই অংশ যা “ব্যক্তিত্বের অবয়বে” সুনির্দিষ্টভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এখানে এই পরম সত্তার প্রভাব যত বাড়বে, দৈহিক বা জাগতিক অস্তিত্বের রেশ ততটাই কমতে থাকবে।
মূল যুক্তিটি হলো, ভৌত জগত বা ফিজিক্স মূলত একটি নির্দিষ্ট পরিসরে উপলব্ধির কম্পাঙ্কগুলোকে সীমিত করার একটি উপায়। এই পরিসর বা রেঞ্জকে বিস্তৃত করুন, আর ব্যাস... আপনি জাগতিক উপলব্ধির গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাবেন।
“সীমানা সূক্ষ্ম হওয়ার” পর্যায়টি উপলব্ধির ব্যাপ্তি বৃদ্ধির সাথে জড়িত, যেখানে আপনি নিজেকে সমষ্টির সাথে মিলিয়ে দেখেন “আমি মানেই আমরা” হিসেবে—নিজেকে একক ব্যক্তি এবং সমষ্টি হিসেবে সমানভাবে অনুভব করেন। তবে এটি এই মহাজাগতিক খেলার পরবর্তী ধাপ। সেখানেই শুরু হয় অভৌত জগত এবং আরও অনেক বিচিত্র কিছুর ক্ষেত্র।




