অ্যান্টার্কটিকার টেলর হিমবাহ থেকে কেন উজ্জ্বল লাল রঙের তরল নির্গত হয়, তা শেষ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছে গবেষকদের একটি আন্তর্জাতিক দল। ২০২৬ সালে 'অ্যান্টার্কটিক সায়েন্স' সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা শতাব্দী প্রাচীন এক অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান করেছে।
১৯১১ সালে অস্ট্রেলীয় ভূতত্ত্ববিদ গ্রিফিথ টেলর সর্বপ্রথম এই বিচিত্র ঘটনাটি বর্ণনা করেন। সে সময় তিনি ধারণা করেছিলেন যে শৈবালের কারণে জলের রঙ এমন হতে পারে, তবে পরবর্তীতে সেই তত্ত্বটি ভুল প্রমাণিত হয়।
এই তথাকথিত 'রক্তের' উৎস হলো প্রায় ১৫ লক্ষ বছর আগে হিমবাহের নিচে আটকে পড়া অতি-লবণাক্ত প্রাচীন লোনা জল। অতিরিক্ত লবণের উপস্থিতির কারণে প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও এই জল বরফে পরিণত হয় না।
যখন এই লোনা জল উপরিভাগে উঠে আসে এবং অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে, তখন এতে থাকা আয়রন বা লৌহ যৌগগুলোর জারণ ঘটে। মূলত এই রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জল গাঢ় রক্ত-লাল রঙ ধারণ করে।
নতুন এই গবেষণার প্রধান সাফল্য হলো—লোনা জল কীভাবে পুরু বরফের স্তর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে, তার কৌশল ব্যাখ্যা করা। এর আগে বিজ্ঞানীরা ঠিক কীভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, তা বুঝতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
প্রকৃতি কেন এতদিন এই রহস্যকে আড়াল করে রেখেছিল?
গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই রহস্য উন্মোচন কেবল দীর্ঘদিনের একটি বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের সমাপ্তি নয়, বরং এটি অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহের নিচে চলমান প্রক্রিয়ার জটিলতাকেও ফুটিয়ে তুলেছে।



