তেলের দাম কমে ৮০ ডলারে, চাঙ্গা বিশ্ববাজার: ট্রাম্প-ইরান শান্তি চুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া

লেখক: Tatyana Hurynovich

তেলের দাম কমে ৮০ ডলারে, চাঙ্গা বিশ্ববাজার: ট্রাম্প-ইরান শান্তি চুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া-1

২০২৬ সালের ১৫ জুন, সোমবার সকালে বিশ্ব পুঁজিবাজারে ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, তবে তেলের বাজারে ধস নেমে দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। ইরানের সাথে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরই বাজারে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

তেলের বাজার: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেजनার অবসান

তেহরানের সঙ্গে বিরোধ মেটানোর বিষয়ে অগ্রগতির খবর আসার পরপরই তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী ধীরে ধীরে খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ নতুন করে শুরু না হয়ে বরং অবসানের দিকে যাচ্ছে—বিনিয়োগকারীরা মূলত এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তেলের দামের হিসাব কষছেন।

সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম গত শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামও ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

বিশ্ব পুঁজিবাজারে তেজি ভাব

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং জ্বালানির দাম কমার প্রত্যাশা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে একযোগে সূচকের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে:

  • যুক্তরাষ্ট্র: ফিউচার মার্কেটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং প্রযুক্তি খাতের নাসডাক ১০০ (Nasdaq 100) সূচকে ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
  • ইউরোপ: ইউরোপের বাজারগুলোও চাঙ্গাভাবে লেনদেন শুরু করেছে। ইউরো স্টক্স ৫০ (Euro Stoxx 50) এবং স্টক্স ৬০০ (Stoxx 600) সূচক ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফ্রান্সের সিএসি ৪০ (CAC 40) প্রায় ১.৫ শতাংশ বেড়ে বাজার বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০, জার্মানির ড্যাক্স ৩০, ইতালির এফটিএসই এমআইবি, স্পেনের আইবিইএক্স ৩৫, নেদারল্যান্ডসের এইএক্স এবং সুইজারল্যান্ডের সিএইচ২০ সূচকে ০.৫ থেকে ১ শতাংশের মধ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
  • এশিয়া: এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বাজারের উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি (Kospi) সূচক ৫ শতাংশের বেশি লাফিয়ে গত শুক্রবারের ৪ শতাংশ দরপতন পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ প্রায় ৩ শতাংশ, সাংহাই এসএসই ১.৫ শতাংশের বেশি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং ও অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ যথাক্রমে ০.৫ ও ০.৮ শতাংশ বেড়েছে।

নেপথ্যের চ্যালেঞ্জ: ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও ইসরায়েলের অবস্থান

বাজারে ব্যাপক উল্লাস থাকলেও দুই পক্ষ ঠিক কোন শর্তে ছাড় দিচ্ছে তা এখনো স্পষ্ট নয়, যা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে।

বিশেষ করে, ইসরায়েল এই চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলবে কি না তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এই রূপরেখা চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত এই আমেরিকা-ইরান চুক্তি কিংবা লেবানন ইস্যু নিয়ে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেননি।

এছাড়া সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েলি নেতা চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জি-৭ সম্মেলনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের চেষ্টা করছেন, যা থেকে বোঝা যায় যে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতভেদ রয়ে গেছে অথবা আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

আশা করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত এই সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবারেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।

তবে বিশ্লেষকরা এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করেছেন যে, চুক্তি স্বাক্ষর এবং পারস্পরিক অবরোধ প্রত্যাহার সফলভাবে সম্পন্ন হলেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Нефть падает до $80 за баррель, рынки растут на заявлениях Трампа о сделке с Ираном

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।