ব্রিটেনে মানুষ জানে কীভাবে একটি সাধারণ সকালকেও ছোটখাটো এক রোমাঞ্চে রূপান্তর করতে হয়।
12 সেপ্টেম্বর প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য Pagham Harbour -এ প্রায় নিখুঁত একটি শিরোনামের অনুষ্ঠান হয়ে গেল — Moths and Coffee!
অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থেই:
«মথ এবং কফি»।
কোনো ডিজে নেই, নেই কোনো জটিল কর্মসূচি বা আধুনিক সাজসজ্জা।
শুধু খুব ভোরবেলা, হাতে এক মগ গরম কফি আর কিছু অদ্ভুত অতিথি, যারা সারা রাত আলোর টানে উড়ে এসেছে।
রাতে অভয়ারণ্যের কর্মীরা মথদের জন্য বিশেষ একটি আলোক ফাঁদ পেতেছিলেন। এটি তাদের কোনো ক্ষতি করে না, বরং সকালে শান্তভাবে দেখার সুযোগ করে দেয় যে রাতভর কারা এসেছিল।
আর সকালে মানুষজন এল।
কফি নিয়ে।
আর শুরু হলো এক অতি ব্রিটিশ ব্রঞ্চ।
কেউ ডানাগুলো খুঁটিয়ে দেখছিল।
কেউ প্রজাতি শনাক্ত করার চেষ্টা করছিল।
কেউ ছবি তুলছিল।
আর মথগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন বুঝতেই পারছে না কেন তাদের রাতের ভ্রমণ হঠাৎ করে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হলো।
কল্পনা করুন:
তুমি তো শুধু আলোর দিকে উড়ে যাও।
আর কয়েক ঘণ্টা পর তোমার চারপাশে মগ হাতে একদল মানুষ:
— কী চমৎকার একটি নমুনা!
মথ:
— মাফ করবেন, আমি আসলে ভুল দরজায় এসে পড়েছিলাম।
এই ধরনের আয়োজনের আসল মুগ্ধতা এখানেই।
কোনো তাড়াহুড়ো নেই।
কোনো হৈচৈ-মুখর বিনোদন নেই।
শুধু প্রকৃতি, কফি, সকাল আর সেই প্রাণীদের দেখার সুযোগ, যাদের বেশিরভাগ মানুষ সাধারণত তখনই খেয়াল করে, যখন তারা রান্নাঘরের বাতির চারপাশে ঘুরতে শুরু করে।
আর সম্ভবত এখানে সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপারটি হলো, এসব কতটা শান্তভাবে শোনায়।
কোথাও যখন ফ্যাশনেবল নাশতা, গ্যাস্ট্রোনমিক উৎসব আর কোলাহলপূর্ণ পার্টি চলছে, ব্রিটিশরা তখন শুধু বলল:
— চলুন, সকালে কফি খাই আর মথ দেখি।
আর জানেন কী?
এটা অপ্রত্যাশিতভাবে খুব ভালো একটি পরিকল্পনার মতো শোনায়। ☕🦋



