শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সময় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মোট 30 বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। শুক্রবার শেষ হওয়া তিন দিনের শীর্ষ সম্মেলন শেষে উভয় পক্ষ এ কথা জানিয়েছে।
প্রতিটি দিকেই অসংবেদনশীল পণ্যের জন্য আরও অনুকূল শুল্কব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, কাঠ ও প্রসাধনসামগ্রীর রপ্তানি শুল্কছাড় পাবে; একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি—ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, খেলনা ও অলংকার—এও ছাড় মিলবে।
এ ছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সংলাপ শুরু করতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। প্রযুক্তিটির ঝুঁকি ও সুফল নিয়ে আলোচনা হবে নভেম্বরে; পাশাপাশি, এআই-সম্পর্কিত ঘটনাবলি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি চ্যানেলও গড়ে তোলা হবে।
নেতাদের মধ্যে হওয়া আট দফার ঐকমত্যের অংশ ছিল এসব সমঝোতা। পাশাপাশি, একটি বাণিজ্য পরিষদ গঠন এবং কুয়ালালামপুরে আগের আলোচনার ফলাফল এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর শি জিনপিংয়ের এই সফর ব্যক্তিগত কূটনীতির আবহে অনুষ্ঠিত হয়। চীনা নেতা ইতিমধ্যে বেইজিংয়ে ফিরে গেছেন; আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠকটিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এর আগে ওয়াশিংটন ও বেইজিং আরও বড় চুক্তির জন্য সময় দিতে বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই মাস বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত করেছে। এতে ভবিষ্যতের গতিপথে কী প্রভাব পড়বে—তা সময়ই বলে দেবে।
এপেক ও G20 শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে একে অপরকে সহযোগিতা করার পরিকল্পনার কথাও নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
