২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল এআই স্ট্র্যাটেজি ২.০’ (যাকে সভরেন এআই স্ট্র্যাটেজি হিসেবেও অভিহিত করা হয়) ঘোষণা করেছে—যা ২০২৬-২০৩১ মেয়াদের জন্য ২.৪ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (প্রায় ১.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাজেটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন যে, এই কৌশলের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় কানাডার অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং এই খাতের মেধাবীদের ধরে রাখা।
কৌশলটির মূল লক্ষ্যসমূহ
এই কৌশলের আওতায় পাঁচটি প্রধান খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেধাবী গবেষকদের ধরে রাখতে এবং নতুনদের আকৃষ্ট করতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে: যার মধ্যে রয়েছে বিশেষজ্ঞদের জন্য রিটেনশন গ্রান্ট এবং মাত্র ১৪ দিনে অনুমোদনের সুবিধাসহ দ্রুতগতির ‘এআই ট্যালেন্ট ভিসা’ কার্যক্রম। গবেষণা কাজের জন্য সুপারকম্পিউটার এবং ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামো খাতে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। অ্যাকাডেমিক গবেষণাকে পণ্য ও ব্যবসায় রূপান্তর করার লক্ষ্যে বাণিজ্যিকীকরণ প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। স্বচ্ছতা রক্ষা এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই সিস্টেমের প্রভাব মূল্যায়নের মতো ‘রেসপন্সিবল এআই’ বা দায়িত্বশীল এআই প্রোগ্রামের জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এআই প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অফ কানাডা ৫০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার প্রদান করবে।
নিয়ন্ত্রণ এবং ডিপফেক থেকে সুরক্ষা
এই কৌশলটি ২০২৪ সালে গৃহীত এআইডিএ (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা অ্যাক্ট) আইনকে আরও পরিপূরক করে তুলবে। নতুন এই উপ-আইনগুলো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই সিস্টেমের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রভাব মূল্যায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে, পাশাপাশি মিডিয়া ও সরকারি ব্যবস্থায় ডিপফেক শনাক্তকরণ এবং লেবেলিংয়ের ব্যবস্থা প্রবর্তন করবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কানাডা প্রায় ২,০০০ এআই গবেষককে হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে কানাডায় এআই বিশেষজ্ঞের মোট সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জন। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো মেধাপাচার রোধ করা এবং এআই উন্নয়নের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা।
বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই পদক্ষেপগুলো শ্রমবাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আইটি সেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। কৌশলটিতে বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায় যে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে এই দলিলটি শুধুমাত্র প্রযুক্তি উন্নয়নেরই নয়, বরং সমাজে এর নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানাডার অঙ্গীকার প্রকাশ করে। এটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।
সূত্র: Investing.com, Aravana.ai.



