ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জো বাইডেনের আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু নীতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (EPA) সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026 সালে, কয়লা ও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বাতিল করার পরিকল্পনা করছে।
হিউস্টনে G20 জ্বালানি মন্ত্রীদের বৈঠকে EPA প্রশাসক লি জেলডিন এই ঘোষণা দেবেন। এই পরিকল্পনার সাথে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, এটি প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং বারাক ওবামার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু নীতিগুলো বাতিলের ধারাবাহিক পদক্ষেপের একটি অংশ হবে।
বাইডেনের 2024 সালের নিয়মে বিদ্যমান কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্র এবং নতুন গ্যাস ভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য কার্বন ক্যাপচার এবং স্টোরেজ প্রযুক্তিসহ অন্যান্য উপায়ে উল্লেখযোগ্যভাবে নির্গমন কমানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। ধারণা করা হয়েছিল যে, এটি 2047 সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন 1 বিলিয়ন মেট্রিক টন কমিয়ে আনবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ খাত দেশটির মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী। এই খাতটি যদি একটি আলাদা দেশ হতো, তবে চীন, সামগ্রিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং রাশিয়ার পর এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দূষণকারী হিসেবে গণ্য হতো।
পরিবেশবাদী এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই বাতিলের বিরোধিতা করছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি কেবল বর্তমান বিধিনিষেধই তুলে নেবে না, বরং ক্লিন এয়ার অ্যাক্টের অধীনে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রশাসনের ক্ষমতাও কেড়ে নিতে পারে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মানদণ্ড বাতিলের পাশাপাশি EPA একটি পৃথক নিয়ম প্রস্তাব করতে পারে যা এই বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তকে বাতিল করবে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি। এটি কার্যত এই ধরনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে এজেন্সির ক্ষমতা কেড়ে নেবে।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে, এই নিয়মগুলো বাতিল করলে কোম্পানিগুলোর খরচ কমবে এবং মার্কিন জ্বালানি খাতকে "মুক্ত" করতে সাহায্য করবে। জেলডিন এর আগে জানিয়েছিলেন যে, এই পদক্ষেপের ফলে শিল্প খাতে বছরে প্রায় 120 মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টার ওপর এই পদক্ষেপ কী প্রভাব ফেলবে?
পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে, একে অবিবেচনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, দেশের জলবায়ু দূষণের এক-চতুর্থাংশের নিয়ন্ত্রণ তুলে নিলে চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

