ডাবলিন সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণকে একটি চমৎকার বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ফার্মলেই হাউসে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী বা তাওসেক মাইকেল মার্টিনের সাথে বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি কোনো সমস্যা তৈরি করতে চান না, তবে আয়ারল্যান্ডকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে তিনি আগ্রহী। তিনি বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতে আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ ঘটবে এবং এটি একটি অসাধারণ ঘটনা হবে। তার মতে, একত্রীকরণ শেষ পর্যন্ত ঘটবেই এবং হয়তো এখনই সেটি হওয়ার উপযুক্ত সময়। তিনি স্বীকার করেন যে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যেরও কিছু বলার থাকতে পারে, তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে এটি খারাপ কিছু হতে পারে কীভাবে।
সীমান্তের উভয় পাশেই তার বন্ধু রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, একত্রীকরণ সবার জন্যই একটি দারুণ বিষয় হবে। যদিও তিনি পরে স্বীকার করেন যে এ ধরনের প্রশ্নের কোনো সহজ বা ভালো উত্তর নেই, তবুও তিনি তার অবস্থানে অনড় থেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে অভিহিত করেন।
আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্পের এই সফর ছিল বেশ সংক্ষিপ্ত। সকালে তিনি আরস আন উখতারাইন-এ আইরিশ প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মার্টিনের সাথে বৈঠক শেষে তিনি কাউন্টি ক্লেয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তার নিজস্ব মালিকানাধীন গলফ কোর্সে আইরিশ ওপেন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। ডাউনিং স্ট্রিট নিশ্চিত করেছে যে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এছাড়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইউনিয়নবাদীরাও ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
একই দিনে ডাবলিনে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১০ হাজার মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন। এই বিক্ষোভ ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতি জনমতের ভিন্নতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য লন্ডন, বেলফাস্ট এবং ডাবলিনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা চলছে। তবে ট্রাম্প নিজে দাবি করেছেন যে মার্কিন-আইরিশ সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে।
এই সফরটি মূলত কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের একটি সংমিশ্রণ ছিল। ডুনবেগে অবস্থিত গলফ কোর্সটি ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন, যা তার এই সফরের অন্যতম গন্তব্য ছিল। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই সফর এবং তার মন্তব্য আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার খোরাক জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

