অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো ভিসার ফি পাঁচ গুণ বাড়াচ্ছে জাপান
গত ৪৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভিসার আবেদন ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সিঙ্গেল এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসার খরচ ৩,০০০ ইয়েন থেকে বেড়ে ১৫,০০০ ইয়েন এবং মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার খরচ ৬,০০০ ইয়েন থেকে ৩০,০০০ ইয়েন হবে। মুদ্রাস্ফীতি, জাপানি মুদ্রার (ইয়েন) মান কমে যাওয়া এবং ২০২৫ সালে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ বিদেশি পর্যটকের আগমন—মূলত এই বিষয়গুলোকে সামাল দিতেই পাঁচ গুণ ফি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও ১৯৭৮ সালের পর থেকে বর্তমান শুল্কের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। গত ৪০ বছরের মধ্যে ইয়েনের মান সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা এবং অতিমারি-পরবর্তী বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ফলে দেশটিতে পর্যটন খাতে ব্যাপক জোয়ার এসেছে। নতুন এই ফি নির্ধারণের ফলে জাপানের ভিসার খরচ এখন বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট ‘জি-সেভেন’-এর অন্য সদস্য দেশগুলোর সমপর্যায়ে চলে আসবে।
বিদেশি পর্যটকদের এই স্রোত যেমন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি ছুড়ে দিয়েছে বড় চ্যালেঞ্জও। কিয়োটো, টোকিও’র মন্দির এলাকা কিংবা কাওয়াগুচি হ্রদের পাড়ের মতো জনপ্রিয় স্থানগুলো এখন ‘অতিরিক্ত পর্যটন’ বা ওভারট্যুরিজম সমস্যার সম্মুখীন, যেখানে ভিড় এখন সহ্যের বাইরে চলে গেছে। ভিসার বর্ধিত ফি থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অর্থ পরিকাঠামো উন্নয়ন, অভিবাসন প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা এবং ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বসবাসকারী ৪১ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি নাগরিকের পরিষেবা নিশ্চিতে ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জাপানি কর্তৃপক্ষ মনে করে, ফি পাঁচ গুণ বাড়লেও তা ভ্রমণপিপাসুদের নিরুৎসাহিত করবে না, কারণ ভ্রমণের মোট খরচের তুলনায় ভিসার ফি খুবই সামান্য। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তিতে একমত হয়ে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে জাপানের যে আকাশচুম্বী চাহিদা, তাতে ফি-র এই বড় ধরনের বৃদ্ধি বিদেশি পর্যটকদের আগমনে তেমন প্রভাব ফেলবে না।
এই সিদ্ধান্তটি মূলত পর্যটন প্রবাহ ব্যবস্থাপনার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ২০২৮ সাল থেকে সরকার জেস্টা (JESTA) বা 'জাপান ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন' চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা বর্তমানে ভিসা-মুক্ত সুবিধা পাওয়া ৭১টি দেশের পর্যটকদের জন্য কার্যকর হবে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো পর্যটকদের আগমনের আগেই স্ক্রিনিং করা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা, যাতে প্রকৃত ভ্রমণকারীদের পথ সহজ হয় এবং একই সঙ্গে দেশের সীমানাও সুরক্ষিত থাকে।
ফি বৃদ্ধি এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সত্ত্বেও জাপান তার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ কোটি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দেশটির সরকার, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাপানের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখবে।


