জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ রক্ষায় একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা এবং জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। মূলত প্রধান জলপথগুলোতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মোকাবিলায় এই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ টহল পরিচালনা এবং হুমকির মুখে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উভয় পক্ষের প্রধান স্বার্থ জ্বালানি সরবরাহের সাথে সম্পৃক্ত: জাপানের ক্ষেত্রে এটি ভারত মহাসাগরীয় পথ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরীয় পথ। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষই দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়াই এই উদ্যোগের মূল কারণ। এনএইচকে (NHK)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষই একটি দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন কমানো সম্ভব হবে।
একটি বিশেষ উদাহরণ হলো বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পরিবহনকারী সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই রুটে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা সরাসরি ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব ফেলে। এই চুক্তি ওই অঞ্চলে নির্দিষ্ট কোনো একটি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করবে।
পরিশেষে বলা যায়, এই অংশীদারিত্ব বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। এটি বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী অন্যান্য দেশগুলোর জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। তবে এই যৌথ পদক্ষেপগুলো বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর করা যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



