৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে প্রদত্ত এক ভাষণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার পদত্যাগের দাবিতে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে লন্ডনে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারমার উল্লেখ করেন যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বাধাগুলো ব্রিটিশ অর্থনীতির ক্ষতি করছে এবং তিনি ব্রাসেলসের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি একক বাজারে ফেরার কোনো সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেননি, তবে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তির ওপর আলোকপাত করেছেন। লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া বিভিন্ন জনমত জরিপের মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এল।
দলের ভেতরে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগসহ ধারাবাহিক অভ্যন্তরীণ সংকটের পর এই ঘটনাটি ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দায়িত্ব গ্রহণকারী স্টারমার মূলত বৈদেশিক নীতির উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের অবস্থান সুসংহত করতে চাইছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ব্রেক্সিটের বিরূপ প্রভাব লাঘবে সহায়ক হলেও তা কঠোর ব্রেক্সিটপন্থীদের তীব্র সমালোচনার জন্ম দিতে পারে।
সরকারের অবস্থানে ব্রেক্সিট চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বিবেচনা না করেই ইইউ-র সাথে ধীরে ধীরে সখ্যতা বাড়ানোর আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো স্টারমারের বিরুদ্ধে কৌশলে ইইউ-তে ফেরার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। ব্রাসেলস দৃশ্যত আলোচনার জন্য উন্মুখ হলেও জোটের মানদণ্ডসমূহ মেনে চলার ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের দাবি রাখছে।
পর্যবেক্ষকদের কাছে আগামী সপ্তাহগুলোতে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা একটি মূল সূচক হিসেবে গণ্য হবে। এই আলোচনার সাফল্য বা ব্যর্থতা থেকেই বোঝা যাবে স্টারমারের এই অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।
সামগ্রিকভাবে, স্টারমারের এই ভাষণটি দলের অভ্যন্তরীণ চাপ এবং দেশের বৈদেশিক অর্থনৈতিক প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।



