পেন্টাগন গোপনীয় সিস্টেমে বাণিজ্যিক এআই অন্তর্ভুক্ত করছে

লেখক: Tatyana Hurynovich

এআই বিশেষজ্ঞরা যখন সামরিক ব্যবস্থায় এর ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করছেন, তখনই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সাথে বেশ কিছু চুক্তির কথা জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন সাতটি শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করেছে যাতে তাদের বাণিজ্যিক এআই মডেলগুলো সুরক্ষিত সামরিক নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যায়—যেখানে আগে এ ধরনের অ্যালগরিদম প্রায় ব্যবহারই করা হতো না।

এপি-র তথ্যমতে, এই চুক্তিগুলো কেবল হার্ডওয়্যার সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আওতায় তথ্য বিশ্লেষণ, লজিস্টিকস এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে সেনাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য তৈরি বাণিজ্যিক মডেল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আগে পেন্টাগন মূলত নিজস্ব উদ্ভাবনের ওপর নির্ভর করলেও বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংস্থাটি বেসরকারি খাতের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে হাঁটছে।

চীনের মতো দেশগুলোর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখে এই চুক্তিগুলো সামরিক এআই-এর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, যারা নিজেরাও সক্রিয়ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামরিকীকরণ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত গ্রাহক সেবা বা বিজ্ঞাপনের মতো কাজের জন্য অ্যালগরিদম তৈরি করে, যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নয়।

অ্যালগরিদমের ত্রুটির দায়বদ্ধতা এবং সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের গ্রহণযোগ্য সীমা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং "বৈধ অপারেশনাল ব্যবহারের" (lawful operational use) ওপর জোর দেওয়া হলেও উচ্চ গোপনীয়তার কারণে স্বচ্ছ জনবিতর্ক ও নিরীক্ষা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তিগুলো একটি বড় প্রবণতাকে প্রকাশ করে: রাষ্ট্র এখন আর কেবল নিজের ওপর নির্ভর না করে উদ্ভাবনের ভার বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিচ্ছে। বিনিময়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বড় অঙ্কের সরকারি অর্থায়ন এবং এমন সব তথ্যে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে যা অন্যথায় পাওয়া সম্ভব ছিল না।

স্মার্টফোনের সাধারণ এআই এবং ড্রোন পরিচালনার এআই-এর মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায় যে মডেলের সামান্য ত্রুটিতেও ঝুঁকির মাত্রা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। দৈনন্দিন কাজে যান্ত্রিক ত্রুটির প্রভাব সীমিত হলেও সামরিক প্রেক্ষাপটে এর পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের সামরিক কর্মসূচিতেও এআই-এর ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে পারে। অন্যদিকে বিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মীরা সামরিক এআই ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি জানাচ্ছেন, কারণ প্রযুক্তির গতি নীতিমালার চেয়ে অনেক দ্রুত।

এই চুক্তিগুলো প্রমাণ করে যে সামরিক ও বেসামরিক প্রযুক্তির মধ্যকার পার্থক্য ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসছে। এখন মূল প্রশ্ন এটি নয় যে এই সিস্টেমগুলো আসবে কি না, বরং প্রশ্ন হলো কীভাবে এগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং সমাজ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিরাপত্তা, উদ্ভাবন ও নৈতিকতার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে।

 

 

 

 

35 দৃশ্য

মন্তব্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

iPhone Duo costs almost ₹3,00,000 in India For the price of ONE phone, you could: • Buy a decent second-hand car • Buy a good motorcycles • Buy around 20 grams of gold • Pay a year’s rent in many Indian cities • Sponsor your brother/sister wedding’s catering bill • Buy a

Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।