অনেক ফিটনেস অ্যাপ এবং ডায়েট গাইড দাবি করে যে, এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে কোনো ক্যালরি নেই। এই ধারণাটি আমাদের মনে এতটাই গেঁথে গেছে যে একে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রাণরসায়নের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই ভারসাম্য কি আসলেই এতটা নিখুঁত?

প্রকৃতপক্ষে, ‘শূন্য ক্যালরি’ ধারণাটি কেবল খাদ্যদ্রব্য লেবেলিংয়ের একটি আইনি প্রথা মাত্র। মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) মান অনুযায়ী, ২৪০ মিলিলিটারের এক কাপ স্ট্যান্ডার্ড ফিল্টার ব্ল্যাক কফিতে প্রায় দুই কিলোক্যালরি শক্তি থাকে। গাঢ় এসপ্রেসো বা ফ্রেঞ্চ প্রেসে এই পরিমাণ কাপ প্রতি পাঁচ কিলোক্যালরি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
শুধুমাত্র পানি এবং গুঁড়ো করা বীজ দিয়ে তৈরি এই পানীয়তে ক্যালরি আসে কোথা থেকে? কফি বিন মূলত একটি জৈবিক বীজ। রোস্টিং বা ভাজা এবং পরবর্তী সিদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় গরম পানি এর ভেতর থেকে দ্রবণীয় উপাদানগুলো বের করে আনে। এক কাপ কফিতে কেবল সুগন্ধি বা ক্যাফেইন নয়, বরং সামান্য পরিমাণে জৈব অ্যাসিড, মনোস্যাকারাইড এবং উদ্ভিজ্জ তেলও থাকে। মূলত এই সূক্ষ্ম উপাদানগুলোই পানীয়টির ঘনত্ব ও গঠন তৈরি করে এবং ওই সামান্য ক্যালরির উৎস হিসেবে কাজ করে।
মানুষের বিপাক প্রক্রিয়ার জন্য এই সামান্য শক্তির পরিমাণ নগণ্য। বাস্তবে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং এই তরল হজম করার প্রক্রিয়ায় শরীর যে পরিমাণ শক্তি খরচ করে, কফি থেকে তার চেয়েও কম শক্তি পাওয়া যায়। এই কারণেই পুষ্টিবিদরা বিশুদ্ধ ব্ল্যাক কফিকে নেতিবাচক ক্যালরিযুক্ত পানীয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।
তবে সমস্যা লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়। যখন কফিতে বাইরের কোনো উপাদান যোগ করা হয়, তখন থেকেই ডায়েটের আসল সংকট শুরু হয়। মাত্র দুই টেবিল চামচ মাঝারি চর্বিযুক্ত দুধ যোগ করলে দুই ক্যালরির পানীয়টি মুহূর্তেই ৩০ ক্যালরিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন সিরাপ, চিনি বা ক্রিম যোগ করার ফলে এক কাপ কফির পুষ্টিগুণ ভারী নাস্তার সমতুল্য হয়ে ওঠে। এমনকি প্ল্যান্ট-বেসড মিল্ক (যেমন ওটস মিল্ক) ব্যবহার করলেও সমস্যা থেকে যায়, কারণ ফেনা তৈরির জন্য এতে প্রায়ই বাড়তি চিনি এবং উদ্ভিজ্জ চর্বি মেশানো হয়।
খাদ্যের আসল উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আমাদের অনেক বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখে। ব্ল্যাক কফি ততক্ষণই ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মেটাবলিজম বাড়ানোর আদর্শ মাধ্যম, যতক্ষণ এতে বাড়তি কিছু যোগ করা না হয়। এই গোপন ফ্যাক্টরগুলোর প্রতি সচেতনতা আমাদের কোনো কঠোর বা অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।




