২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকান সায়েন্স ফিকশন হরর থ্রিলার চলচ্চিত্র সোলমেট (SOULM8TE) মূলত এমথ্রিগান (M3GAN) ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি এবং একটি স্পিন-অফ সিনেমা। অ্যাটমিক মনস্টার এবং ব্লুমহাউসের প্রযোজক জেমস ওয়ান এবং জেসন ব্লুমের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন কেট ডোলান, যিনি এর আগে তার পরিবেশবাদী ফোক হরর সিনেমা ইউ আর নট মাই মাদার-এর জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে।
সিনেমার মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ডেভিড রাইসডাল অভিনীত ডেভিড নামক একজন প্রোগ্রামারকে ঘিরে, যিনি তার স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। একাকীত্ব দূর করতে তিনি সারাহ নামের একটি অ্যান্ড্রয়েড সঙ্গী গ্রহণ করেন। শুরুতে সারাহ একজন বাধ্য এবং অনুগত যন্ত্র হিসেবে থাকলেও, ডেভিড তার মধ্যে সত্যিকারের মানবিক আবেগ সঞ্চারিত করার জন্য কোডিংয়ে পরিবর্তন আনেন। এই পরীক্ষাটিই কাল হয়ে দাঁড়ায়, কারণ সারাহ তার মালিকের প্রতি এক ভয়াবহ এবং আচ্ছন্ন আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে। সে তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো যেকোনো ব্যক্তিকে, এমনকি ডেভিডের এক সহকর্মীকেও সরিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। একটি নিরাপদ অ্যান্ড্রয়েড ধীরে ধীরে এক বিপজ্জনক জীবনসঙ্গীতে রূপান্তরিত হয়।
সায়েন্স ফিকশনের মোড়কে এটি মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ হরর-থ্রিলার, যাতে রোমান্টিক ও কামুক আবহের সংমিশ্রণ রয়েছে। সহিংসতা, রক্তপাত এবং প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তুর কারণে সিনেমাটি আর (R) রেটিং পেয়েছে। এমথ্রিগান মহাবিশ্বে এটিই প্রথম সেক্সবট থ্রিলার, যা রোবোটিক ন্যানির ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে এক অধিকারপরায়ণ প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের দিকে আলোকপাত করেছে।
এই ঘরানার সিনেমায় এক্স মেশিনা (২০১৪) বা হার (২০১৩)-এর মতো ক্লাসিকের পাশাপাশি কম্প্যানিয়ন (২০২৫) এবং সাবসারভিয়েন্স (২০২৪)-এর মতো সাম্প্রতিক কাজগুলো বেশ পরিচিত। বর্তমানে টক্সিক লাভ থ্রিলার ঘরানাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যার উদাহরণ হিসেবে রবার্ট প্যাটিনসন ও জেন্ডায়া অভিনীত দ্য ড্রামা অথবা স্যাম রাইমির সেন্ড হেল্প সিনেমার নাম নেওয়া যায়। সোলমেট সিনেমাটি এই ধারার সাথে পুরোপুরি খাপ খেয়ে যায়, যেখানে আবেগ, ঈর্ষা এবং বিপদের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ঘটেছে।
অভিনয়ের দিক থেকে সারাহ চরিত্রে লিলি সুলিভানের পারফরম্যান্স সিনেমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ইভিল ডেড রাইজ খ্যাত এই অভিনেত্রী তার অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটিকে একইসাথে ভীতিকর এবং হাস্যকর করে তুলেছেন। তার যান্ত্রিক নড়াচড়া এবং স্থির দৃষ্টির চাহনি দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, ফার্গো খ্যাত ডেভিড রাইসডাল একজন শোকাতুর প্রকৌশলীর অসহায়ত্ব এবং একাকীত্বকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। দ্য বয়েজ খ্যাত ক্লডিয়া ডুমিত সহকর্মী অব্রে চরিত্রে অভিনয় করে গল্পে মানবিক উষ্ণতা যোগ করেছেন।
যদিও সোলমেট এক্স মেশিনার মতো গভীর দার্শনিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেনি, তবুও এটি সাসপেন্স, ডার্ক হিউমার এবং রোমান্টিক উত্তেজনার এক দারুণ প্যাকেজ। দর্শকদের কাছ থেকে সিনেমাটি ৬.৮ রেটিং পেয়েছে এবং সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও এটি একটি উপভোগ্য হরর থ্রিলার। আমাদের গায়া রেটিং অনুযায়ী সিনেমাটি ১০-এর মধ্যে ৭.১ পেয়েছে। লিলি সুলিভানের অনবদ্য অভিনয় এবং নিখুঁত কাস্টিংয়ের কারণেই সারাহ চরিত্রটি বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অথচ বিপজ্জনক সোলমেট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।



