আমেরিকান গবেষণা কেন্দ্রগুলোর বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, দীর্ঘায়ুর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত APOE2 জিনের একটি প্রকরণ নিউরন বা স্নায়ুকোষগুলোকে দীর্ঘকাল ধরে সচল ও কার্যক্ষম রাখতে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের ১৫ মে 'এজিং সেল' (Aging Cell) সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, APOE2 কেবল বার্ধক্যকে ধীরই করে না, বরং এটি ডিএনএ সুরক্ষার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলোকে সক্রিয় করার মাধ্যমে স্নায়ুকোষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।
সাধারণত শতায়ু ব্যক্তিদের শরীরে এই অ্যালিলটি বেশি দেখা যায় এবং আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে এর ভূমিকা দীর্ঘকাল ধরেই স্বীকৃত। বর্তমান গবেষণায় এর গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: APOE2 কোষের ভেতর এমন এক সূক্ষ্ম সংকেত ব্যবস্থা চালু করে যা ক্ষতি হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করতে পারে। ফলে নিউরনগুলো 'ঘর ভেঙে পড়ার' জন্য অপেক্ষা না করে আগেভাগেই এর দেয়াল মজবুত করে, ফাটল মেরামত করে এবং প্রাণের স্পন্দন সচল রাখে।
মানুষের স্নায়ুকোষের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, APOE2 সমৃদ্ধ কোষগুলোতে ডিএনএ-র ক্ষতি অনেক কম হয়, মেরামতের প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত কাজ করে এবং এগুলো বার্ধক্যের লক্ষণগুলোকে আরও ভালোভাবে প্রতিরোধ করতে পারে। এমনকি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা চাপের মুখেও এই কোষগুলো দীর্ঘ সময় টিকে ছিল এবং তাদের অভ্যন্তরীণ গঠন অক্ষুণ্ণ রেখেছিল।
এই আবিষ্কার মস্তিষ্কের বার্ধক্য সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। বার্ধক্য এখন কেবল অনিবার্য ক্ষয় নয়, বরং শরীরের নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে APOE2 অমরত্বের নিশ্চয়তা দেয় না; জেনেটিক্স কোনো জাদুর কাঠি নয়, বরং এটি অনেকটা বাদ্যযন্ত্রের সূক্ষ্ম টিউনিং বা সুর বাঁধার মতো। আর এই সঠিক সুরই মস্তিষ্ককে দিতে পারে দীর্ঘস্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও মানসিক স্থিতিশীলতা।
যদিও এই গবেষণাগুলো এখন পর্যন্ত কোষীয় মডেল এবং প্রাণীদের ওপর সীমাবদ্ধ, তাই মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি সিদ্ধান্তে আসার আগে সতর্কতা প্রয়োজন। তবে আগামীর পথচলা এখন অনেকটা স্পষ্ট: কেবল ভবিষ্যতের ওষুধের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক ব্যায়াম, মানসিক চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেও আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখা সম্ভব।
APOE2 আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শরীরের ভেতরেই রয়েছে এক জ্ঞানগর্ভ সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিজ্ঞান সবেমাত্র সেই অভ্যন্তরীণ রহস্যের বর্ণমালা পড়তে শিখছে।




