GW250114 নামক মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তকরণের ঘটনায় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বরের ইভেন্ট হরাইজন বা সেই অদৃশ্য সীমানা থেকে আসা প্রতিধ্বনি ধরতে সক্ষম হয়েছেন, যেখান থেকে কোনো কিছুই আর ফিরে আসতে পারে না।
২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যানফোর্ড এবং লিভিংস্টোনে অবস্থিত লাইগো (LIGO) ডিটেক্টরগুলো এই সংকেতটি রেকর্ড করে। সংগৃহীত তথ্য থেকে প্রভাবশালী ‘কোয়াসিনরমাল মোড’গুলো বাদ দেওয়ার পর এমন একটি উপাদান পরিলক্ষিত হয়, যা হরাইজনের ঘূর্ণন কম্পাঙ্কের (Ω_H) প্রায় দ্বিগুণ কম্পাঙ্কে স্পন্দিত হয় এবং পৃষ্ঠতলের মহাকর্ষীয় (κ) টানের প্রভাবে ক্রমশ স্তিমিত হয়ে আসে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো কার (Kerr) কৃষ্ণগহ্বর সংক্রান্ত গাণিতিক পূর্বাভাসের সাথে হুবহু মিলে গেছে।
২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি তাত্ত্বিক গবেষণায় ‘সরাসরি তরঙ্গ’ বা ‘ডিরেক্ট ওয়েভ’-এর অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল—এটি এমন এক মহাকর্ষীয় তরঙ্গের সংকেত যা আবর্তনশীল কৃষ্ণগহ্বরের ‘এরগোস্ফিয়ার’-এ স্থান-কালের ঘূর্ণন (ফ্রেম-ড্র্যাগিং) এবং ইভেন্ট হরাইজনের কাছে মহাকর্ষীয় রেডশিফটের ছাপ বহন করে। GW250114 ঘটনায় এই তরঙ্গের সংকেত-গোলযোগ অনুপাত (সিগন্যাল-টু-নয়েজ রেশিও) ১৫.৮ থেকে ১৭.১ এর মধ্যে ছিল, যার ফলে নবগঠিত কৃষ্ণগহ্বরটির বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে।
এই আবিষ্কারটি শক্তিশালী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের গতিশীল পরিবেশে ইভেন্ট হরাইজনের কাছাকাছি পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার জন্য প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষণমূলক পথ উন্মোচন করেছে। আগে এই ধরণের প্রভাবগুলো শুধুমাত্র তাত্ত্বিকভাবে অনুকরণ (মডেলিং) করা সম্ভব ছিল; এখন দুটি কৃষ্ণগহ্বরের সরাসরি একীভূত হওয়ার ঘটনায় সেগুলোর প্রমাণ পাওয়া গেল।
গবেষণার এই ফলাফলগুলো ২০২৬ সালের ২৪ জুন ‘নেচার’ (Nature) সাময়িকীতে ‘GW250114 reveals signatures of post-merger black-hole horizon’ শিরোনামের একটি নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে।
