২০২৬ সালের ইউএফও রহস্য উন্মোচন | চতুর্থ কিস্তির ভিডিও প্রকাশ

লেখক: Uliana S

চতুর্থ রিলিজের সমস্ত ভিডিওর সম্পূর্ণ সংকলন।

২০২৬ সালের ১০ জুলাই যুদ্ধ মন্ত্রণালয় তাদের **PURSUE** প্রকল্পের চতুর্থ কিস্তির নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। মোট ৪০টি নতুন ফাইলের মধ্যে ১৯টিই হলো ভিডিও, যা এই দফার প্রায় অর্ধেক। যদিও রেকর্ড সৃষ্টিকারী দ্বিতীয় কিস্তির (৫১টি ভিডিও) তুলনায় এটি সংখ্যায় কম, তবে শুটিংয়ের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং ভিডিওর উচ্চমানের কারণে এই কিস্তিটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

DOW-UAP-PR030, Unresolved UAP Report, Middle East, 2023. একটি ধীরে-গতি ভিডিও, যেখানে দৃশ্যের ক্ষেত্রেই একটি পরিবর্তনশীল বস্তু রয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত ফাইলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল **DOW-UAP-PR115** (আমেরিকা উপসাগর, ২০১৯)। ইনফ্রারেড ক্যামেরায় ধরা পড়া এই বস্তুটি দীর্ঘ সময় ধরে পানির উপরে স্থির ছিল এবং এতে উজ্জ্বলতা ও আকারের আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ২৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সামরিক পর্যবেক্ষক এটিকে "আগে দেখা কোনো কিছুর সাথেই মেলে না" বলে বর্ণনা করেছেন। ভিডিওটি খুব দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

DOW-UAP-PR116-এর উন্নত ধীর-গতি ফুটেজ (Atlantic Ocean, 2020)

**DOW-UAP-PR116** (আটলান্টিক মহাসাগর, ২০২০) ফাইলটিও সমানভাবে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ৩২ সেকেন্ডের এই রেকর্ডিংয়ে প্রায় ১২-১৫ ফুট উচ্চতার একটি অন্ধকার বস্তু দেখা যায়। এটি কোনো ধরনের সক্রিয় চালনা ছাড়াই বাতাসের সাথে ভেসে চলছিল, যা দেখতে অনেকটা "বিশালাকার, কিছুটা বিকৃত বল বা বেলুনের" মতো ছিল। বস্তুটি দেখতে অনেকটা অ্যারোস্ট্যাটের মতো হলেও এএআরও (AARO) এটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেনি, ফলে প্রতিবেদনটি অমীমাংসিত বিভাগেই রয়ে গেছে।

AI-উন্নত ফ্রিজ-ফ্রেম DOW-UAP-PR116 (Atlantic Ocean, 2020)

এছাড়াও নজর কেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ২০২৩ সালে ধারণকৃত **DOW-UAP-PR030** ভিডিওটি। একটি সামরিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগৃহীত ১০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দুটি উজ্জ্বল ও বিপরীতমুখী বৈপরীত্যের এলাকা দেখা যায়, যা দ্রুত সেন্সরের দৃষ্টিসীমা অতিক্রম করে। এর মধ্যে একটি ডানদিকের নিচ থেকে ঢুকে উপরের দিকে চলে যায় এবং অন্যটি উপর থেকে নিচের দিকে নেমে আসে। ভিডিওর সংক্ষিপ্ত দৈর্ঘ্য এবং চলাচলের ধরন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়; অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, বস্তুগুলোর গতিপথ এবং গতি এই অঞ্চলে সচরাচর দেখা যাওয়া ড্রোন, বিমান বা মিসাইলের সাথে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সামুদ্রিক ঘটনার এই তালিকায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু রেকর্ডিংও যুক্ত হয়েছে। **DOW-UAP-PR104** (পীত সাগর, ২০২৫) ফাইলে ছয় কোণা তারার মতো একটি বস্তু দেখা যায়। **DOW-UAP-PR105** (পূর্ব চীন সাগর, ২০২৫) ফাইলে দেখা যায় যে, বারবার জুম বা স্কেল পরিবর্তন করে একটি লক্ষ্যবস্তুকে দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করা হচ্ছে।

আর্কাইভ করা পুরনো নথিপত্রগুলোর মধ্যে ১৯৯৬ সালের পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের **DOW-UAP-PR113** ফাইলটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের এই ফুটেজে একটি বস্তুকে সেন্সরের দৃষ্টিসীমা অতিক্রম করতে দেখা যায়।

চতুর্থ কিস্তির এই প্রকাশনা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পারস্য উপসাগর, আটলান্টিক, মধ্যপ্রাচ্য এবং পীত সাগরের এই ভিডিওগুলো মুহূর্তের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ বার দেখা হয়েছে। মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল—কেন এই বস্তুগুলো বারবার সমুদ্র উপকূল এবং সামরিক এলাকার আশেপাশে দেখা যাচ্ছে? অনেকেই ভিডিওর উচ্চ গুণগত মান এবং কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যার অভাব নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

প্রকাশনার সময় পর্যন্ত ১৯টি ভিডিওর সবকটিই 'অমীমাংসিত ইউএপি প্রতিবেদন' (Unresolved UAP Reports) হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। যুদ্ধ মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা শুধুমাত্র স্বাধীন বিশ্লেষণের সুবিধার্থেই এই নথিপত্রগুলো প্রকাশ করছে। চতুর্থ কিস্তিটি আবারও প্রমাণ করেছে যে ইউএপি (UAP) রহস্যের ভৌগোলিক এবং সময়গত ব্যাপ্তি বিশাল—যা ১৯৯৬ সালের আর্কাইভ ফুটেজ থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের ঘটনা পর্যন্ত বিস্তৃত—এবং এই ধরনের বিশ্লেষণের জন্য ভিডিও ফুটেজই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে রয়ে গেছে।

8 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।