সূর্যের আলো উদ্ভিদের প্রাণশক্তি জোগায় ঠিকই, তবে একই সাথে এটি তাদের ডিএনএ-র ক্রমাগত ক্ষতিও করে — আর প্রাণীদের মতো গাছপালা এই বিপদ থেকে দূরে সরে যেতে পারে না।
তারা অভ্যন্তরীণ মেরামতের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়, যা বিশেষ করে বৃদ্ধির জন্য দায়ী কলাগুলোতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করে: স্টেম সেল বা ভাজক কলার অঞ্চলগুলোতে যেখানে নতুন পাতা, মূল, ফুল এবং বীজ তৈরি হয়।
সম্প্রতি পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি বুঝতে পারছিলেন না যে উদ্ভিদ কীভাবে ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ডিএনএ মেরামতের কাজ সমন্বয় করে।
সল্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা YAF9B নামক একটি বিশেষ প্রোটিন শনাক্ত করেছেন, যা কেবল ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরই সক্রিয় হয় এবং মূলত বৃদ্ধির কলাগুলোতেই এটি বেশি থাকে।
এই প্রোটিনটি ঠাসা অবস্থায় থাকা ক্রোমাটিনকে "আনপ্যাক" বা খুলতে সাহায্য করে যাতে মেরামতের এনজাইমগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছাতে পারে এবং দ্রুত কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ মেরামতের বদলে নির্ভুল সংস্কার সম্পন্ন করতে পারে।
সব জায়গায় সক্রিয় থাকা YAF9A-র বিপরীতে, YAF9B একটি বিশেষায়িত "উদ্ধারকারী" হিসেবে কাজ করে, যা উদ্ভিদের ভবিষ্যৎ অঙ্গগুলোর জেনেটিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।
'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস'-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি দেখায় যে, বিবর্তনের ধারায় গাছপালা সুরক্ষার এমন একটি অতিরিক্ত স্তর তৈরি করেছে যা প্রাণী বা ইস্টের মধ্যে নেই।
ক্রমবর্ধমান খরা, অতিবেগুনি রশ্মি এবং অন্যান্য প্রতিকূলতার মধ্যে এই ব্যবস্থাটি আরও সহনশীল কৃষিজ ফসল তৈরির চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া, উচ্চ-সঠিকতাসম্পন্ন ডিএনএ মেরামতের এই প্রক্রিয়াটি বোঝা গেলে উদ্ভিদের জিনোম এডিটিং পদ্ধতিতেও উন্নতি আনা সম্ভব হবে, যেখানে বর্তমানে প্রায়ই দ্রুত কিন্তু অসংলগ্ন মেরামতের পথ ব্যবহার করা হয়।
বিজ্ঞানীদের পরবর্তী পদক্ষেপ হলো YAF9B ঠিক কীভাবে মেরামতের ধাপগুলোকে সমন্বয় করে এবং ক্ষতির পরেই কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা উদ্ঘাটন করা।
এই আবিষ্কার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এমনকি কঠোরতম পরিস্থিতিতেও প্রকৃতি জীবনের অখণ্ডতা বজায় রাখার পথ খুঁজে নেয় — আর মানুষের কাজ হলো সেই সমাধানগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বাস্তবে প্রয়োগ করা।

