আর্জেন্টিনার কর্ডোবা প্রদেশে এমন এক ঘটনা ঘটেছে যা এই অঞ্চলের অন্যতম রহস্যময় শিকারি প্রাণীর জীবন সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দিতে পারে। প্রথমবারের মতো এখানে স্যাটেলাইট কলার পরিয়ে একটি ইয়াগুয়ারুন্ডিকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে—প্রাণীটি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে।
ইয়াগুয়ারুন্ডি (Herpailurus yagouaroundi) হলো দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাসকারী বিড়াল প্রজাতির একটি ছোট সদস্য। এদের জীবনধারা অনেকটা রহস্যে ঘেরা: প্রাণীটি একাকী থাকতে পছন্দ করে, মূলত গোধূলি বা ভোরে সক্রিয় হয় এবং গবেষকদের নজরে খুব কমই আসে।
এই কারণেই তাদের বিচরণ এবং এলাকা ব্যবহারের তথ্য এই প্রজাতিটি পরিবেশ পরিবর্তনের সাথে কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছে তা বোঝার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। নির্দিষ্ট এই প্রাণীটির গল্প শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে।
সে সময় পরিবেশ রক্ষা পুলিশ ভিলা কনসেপসিওন দেল তিও এলাকায় মা-হীন মাত্র দেড় মাস বয়সী এক ক্ষুদ্র শাবককে খুঁজে পায়। প্রাণীটিকে বায়োডাইভারসিটি পার্কে হস্তান্তর করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞরা এক বছর ধরে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন, যাতে মানুষের সাথে যোগাযোগ সর্বনিম্ন রেখে তার প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিগুলো বজায় রাখা যায়।
সফল প্রশিক্ষণ শেষে সান জুস্তো বিভাগের আল্টোস দে চিপিয়ন এলাকায় ইয়াগুয়ারুন্ডিটিকে মুক্ত করা হয়। মুক্ত করার ঠিক আগে সেটির গলায় একটি স্যাটেলাইট কলার পরিয়ে দেওয়া হয়।
এখন ইনস্টিটিউট অফ অ্যানিম্যাল ডাইভারসিটি অ্যান্ড ইকোলজি (IDEA-CONICET) এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ কর্ডোবার বিজ্ঞানীরা এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং এটি কীভাবে নতুন এলাকা দখল করে বা কোন জায়গাগুলো পছন্দ করে তা নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন। একই দিনে একটি ক্যাপিবারাকেও প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যেটি একইভাবে পুনর্বাসিত হয়েছিল।
এই ধরনের যৌথ মুক্তি অভিযান বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রদেশের নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিরই বহিঃপ্রকাশ। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র স্বতন্ত্র প্রাণীদের ভাগ্য নজরদারি করতেই সাহায্য করে না, বরং পুরো প্রজাতির সংরক্ষণের পরিকল্পনা তৈরিতে কার্যকর তথ্য সংগ্রহেও সহায়তা করে।
এই ধরনের প্রকল্পগুলো থেকে জানা যাবে যে, যেখানে মানুষের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে সেখানে বন্য বিড়ালেরা কতটুকু সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং কোন অঞ্চলগুলো এখনও তাদের বসবাসের উপযোগী রয়েছে।



