২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে নেপালের পার্সা জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণ প্রান্তের বাসিন্দারা লোকালয়ের কাছে বাঘের পায়ের ছাপ লক্ষ্য করেন। একের পর এক এমন খবর আসতে থাকায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং জুলজিক্যাল সোসাইটি অফ লন্ডন (জেডএসএল নেপাল)-এর বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
যেসব বনাঞ্চলে বাঘের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি, সেখানে তারা তিনটি রিয়েল-টাইম ক্যামেরা স্থাপন করেন। সাধারণ ট্র্যাপ ক্যামেরার বিপরীতে এই যন্ত্রগুলো থেকে সাথে সাথেই ছবি পাওয়া সম্ভব ছিল। মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় একটি ক্যামেরায় জলাশয়ের কাছে দুটি ছানাসহ এক বাঘিনীকে দেখা যায়। বাঘিনীর গায়ের ডোরকাটা দাগ দেখে ২০২২ সালের জাতীয় বাঘ শুমারির তালিকার সাথে মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করা হয়; দেখা যায় এটি সেই একই বাঘিনী, তবে এবার সে তার বড় হয়ে ওঠা ছানাদের সাথে রয়েছে।
দশাইঁ উৎসব ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছিল—উৎসব শুরু হতে তখন মাত্র আট দিন বাকি। এই সময়ে জ্বালানি কাঠ, ঘাস এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের জন্য উদ্ভিদের খোঁজে স্থানীয়রা প্রায়ই বনে প্রবেশ করেন। ছানাসহ বাঘিনীর সাথে মানুষের আকস্মিক দেখা হয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারত। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত একটি ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করেন, যেখানে নয়টি বসতি এবং পাঁচটি প্রধান পথ চিহ্নিত করা হয় যেখানে মানুষের সাথে বাঘের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ছিল। এর মধ্যে একটি গ্রাম তো ক্যামেরাটি যে স্থানে বসানো হয়েছিল, সেখান থেকে মাত্র নয়শ মিটার দূরে অবস্থিত ছিল।
আতঙ্ক ছড়ানো এড়াতে বাঘের সঠিক অবস্থানের তথ্য সর্বসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। তার বদলে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে বাসিন্দাদের সাথে সভা করা হয়, তথ্য বোর্ড স্থাপন করা হয় এবং কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়: যেমন নির্দিষ্ট কিছু পথ এড়িয়ে চলা, গবাদি পশু অরক্ষিত অবস্থায় না রাখা এবং বাঘের পায়ের ছাপ দেখলে সাথে সাথে জানানো। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল 'বাঘ মিত্র' বা 'বাঘের বন্ধু'রা, যারা আগে থেকেই প্রশিক্ষিত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত ছিলেন।
একটি ছবি থেকে শুরু করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ পর্যন্ত এই দ্রুত সমন্বয় দেখিয়ে দিয়েছে যে, স্থানীয় জ্ঞান এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হতে পারে। যে অঞ্চলে আগে বাঘের আক্রমণ এবং তার প্রতিক্রিয়ায় বাঘ হত্যার মতো ঘটনা ঘটত, সেখানে এখন কেবল ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
আধুনিক ক্যামেরা, প্রাণীদের সঠিক শনাক্তকরণ এবং উদ্যান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সমন্বয়ে এই বনাঞ্চলে মানুষ ও বাঘ উভয়কেই রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের উদাহরণ প্রমাণ করে যে, সময়োচিত তথ্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুসংহত পদক্ষেপ বন্যপ্রাণী ও মানব বসতির সীমানায় বিদ্যমান ভঙ্গুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম।



