প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যখন আরও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রতিযোগিতায় মগ্ন, তখন বিল গেটস মনোযোগ দিতে চাইলেন তাদের দিকে, যারা নতুন ডিজিটাল যুগের বাইরে পড়ে থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে।
গেটসের ফাউন্ডেশন অন্তত এক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করবে আগামী দুই বছরের মধ্যে সাশ্রয়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে। এই সিস্টেমগুলোকে কেবল বড় কর্পোরেশন ও সচ্ছল ব্যবহারকারীদের নয়, বরং সারা বিশ্বের সাধারণ চিকিৎসক, শিক্ষক, কৃষক ও স্কুলশিক্ষার্থীদেরও সহায়তা করতে হবে।
প্রায় 40% অর্থ ব্যয় হবে স্বাস্থ্যসেবায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে রোগ নির্ণয়, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা, গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের যত্ন, এবং নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির কাজে।
আরও 40% পাবে শিক্ষা খাত। এখানে কথা হচ্ছে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়কদের নিয়ে, যারা জটিল বিষয় ব্যাখ্যা করতে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্তর অনুযায়ী কাজ বাছাই করতে এবং শিক্ষকদের কাজ সহজ করতে পারবে।
অর্থের দশমাংশ বরাদ্দ রয়েছে কৃষির জন্য। কৃষকরা আবহাওয়া, মাটির অবস্থা ও চাষকৃত ফসলের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে পরামর্শ পেতে পারবেন। ছোট খামারের জন্য এমন ডিজিটাল পরামর্শ একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষজ্ঞ দলের প্রকৃত বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
বাকি 10% বিনিয়োগ করা হবে ভাষা-ভান্ডার ও ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়নে। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে তথ্যের ওপর প্রশিক্ষণ পায়, তার বড় অংশ ইংরেজি ভাষায়। এ কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের মাতৃভাষায় নতুন প্রযুক্তি পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারেন না।
বিল গেটসের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে সক্ষম — তবে কেবল তখনই, যদি তা শুরু থেকেই সবার জন্য তৈরি করা হয়। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিজে নিজে সমতা নিশ্চিত করে না: সবচেয়ে সুবিধাজনক ও শক্তিশালী যন্ত্রগুলো সাধারণত প্রথমে তারাই পান, যারা ইতিমধ্যে সেগুলোর জন্য অর্থ দিতে পারেন।
তাই নতুন এই বিলিয়ন কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নয়, বরং তার সুলভতার পেছনে বিনিয়োগ করা হবে। যাতে ডিজিটাল সহায়ক কেবল আধুনিক অফিসেই নয়, বরং গ্রামের স্কুল, ছোট হাসপাতাল বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারেও পৌঁছে যায়।
হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রধান অর্জন হবে লেখা তৈরি বা সুন্দর ছবি বানানোর দক্ষতা নয়। বরং সময়মতো চিকিৎসককে রোগ নির্ণয়ে ইঙ্গিত দেওয়া, শিশুকে পাঠ বুঝতে সাহায্য করা এবং কৃষকের ভবিষ্যতের ফসল রক্ষা করার সামর্থ্য। 🌍



