গত কয়েক বছর ধরে পশুচিকিৎসকরা গৃহপালিত বিড়ালের জীবনে নিয়ন্ত্রিতভাবে বাইরে ঘোরার গুরুত্ব নিয়ে জোরালো আলোচনা করছেন। বিশেষজ্ঞরা একমত যে, কড়া নজরদারিতে বাইরের নির্মল পরিবেশে সময় কাটালে পোষা প্রাণীদের মানসিক অবস্থা ও আচরণের লক্ষণীয় উন্নতি ঘটতে পারে। নিয়মিত হারনেস পরিয়ে বাইরে নিয়ে গেলে তা বিড়ালের শিকারি প্রবৃত্তি মেটাতে সাহায্য করে, উদ্বেগ কমায় এবং ঘরে কোনো কিছু ভাঙচুর করার প্রবণতা রোধ করে।
ফ্ল্যাটে থাকা বিড়ালদের প্রধান সমস্যা হলো উদ্দীপনার অভাব। একঘেয়েমির কারণে অনেক পোষা বিড়াল আসবাবপত্র আঁচড়ানো, আক্রমণাত্মক আচরণ বা অস্বাভাবিক কাজ শুরু করে। গলার কলারের বদলে উন্নত মানের হারনেস ব্যবহার করে বাইরে নিয়ে গেলে তারা নিরাপদে ঘাস শুকতে পারে, পাখি দেখতে পারে এবং চারপাশ অন্বেষণ করার সহজাত প্রবৃত্তি মেটাতে পারে। এর ফলে বিড়ালটি গাড়ি, রাস্তার হিংস্র প্রাণী বা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত নিয়ন্ত্রিতভাবে বাইরে বের হওয়া বিড়ালরা কম আক্রমণাত্মক ও কম উদ্বিগ্ন হয় এবং বাড়িতে তাদের আচরণ অনেক বেশি শান্ত ও স্বাভাবিক থাকে।
বাইরে ঘোরার বিষয়টি বিড়ালকে কতটা সঠিকভাবে অভ্যস্ত করা হচ্ছে তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে। এটি শুরু করার উপযুক্ত সময় হলো বিড়ালের ছয় মাস থেকে এক বছর বয়স, কারণ এই সময়ে তারা নতুন কিছু সহজে গ্রহণ করতে পারে। প্রথমে বাড়িতেই বিড়ালকে হারনেস পরার অভ্যাস করান, যাতে তারা এর স্পর্শে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এরপর সিঁড়ি বা প্রবেশপথের মতো জায়গায় নিয়ে যান, যাতে বড় কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই তারা বাইরের নতুন গন্ধ ও শব্দের সাথে পরিচিত হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে কোনো নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে যান যেখানে মানুষ বা কুকুরের ভিড় কম থাকে। শুরুর দিকে ৫-১০ মিনিটের জন্য বের হোন এবং বিড়ালের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ১৫-৩০ মিনিট করুন। বিড়ালের চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া বা কান গুটিয়ে রাখা দেখলে বুঝবেন সে ভয় পাচ্ছে বা চাপে আছে, তাই সবসময় তার শারীরিক ভাষার দিকে নজর দিন। অস্বস্তির সামান্য লক্ষণ দেখলেই তৎক্ষণাৎ ঘোরা বন্ধ করে বাড়িতে ফিরে আসা উচিত। এতে বাইরের পরিবেশ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে না এবং তারা বিষয়টিকে একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করবে।
পশুচিকিৎসকরা লক্ষ্য করেছেন যে, নিয়ন্ত্রিতভাবে বাইরে বের হওয়া বিড়ালের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। নিয়মিত বাইরে যাওয়া বিড়ালরা ঘরে এলাকা চিহ্নিত করার চেষ্টা কম করে, আসবাবপত্র কম নষ্ট করে এবং তাদের ঘুম ভালো হয়। কারণ বাইরে বের হলে তারা শিকার করা, নতুন কিছু খোঁজা বা এলাকা চিহ্নিত করার মতো প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিগুলো সহজে প্রকাশ করতে পারে। বিড়াল মালিকরা জানিয়েছেন যে, বাইরে ঘোরার ফলে তাদের পোষা প্রাণীরা অনেক বেশি শান্ত থাকে এবং একঘেয়েমি বা বিষণ্নতায় ভোগে না। বিশেষ করে যে বিড়ালদের শিকারি প্রবৃত্তি প্রবল, তাদের জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য এটিই একমাত্র কার্যকর উপায় হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে যে সব বিড়ালের জন্য বাইরে ঘোরা উপযোগী নয়। পাঁচ-ছয় মাসের কম বয়সী বিড়ালছানা, গর্ভবতী বা দুগ্ধবতী বিড়াল, অসুস্থ প্রাণী এবং ১০ বছরের বেশি বয়সী বিড়াল যারা আগে কখনো বাইরে যায়নি, তাদের ক্ষেত্রে পরিবেশ পরিবর্তনের চাপ উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। এছাড়া যদি কোনো বিড়াল স্বভাবগতভাবে লাজুক হয় এবং বাইরে যেতে ভয় পায়, তবে তাকে জোর করা ঠিক নয়, কারণ এতে তার উদ্বেগ আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে বাড়ির ভেতরেই বিভিন্ন ধরণের খেলনা, স্ক্র্যাচিং পোস্ট এবং জানালার পাশে বসার ব্যবস্থা করে তাদের সময় কাটানোর সুযোগ করে দেওয়া ভালো।



