ব্যাটন রুজের জেলা জজ বো হিগিনবোথাম সম্প্রতি তার ১৬ বছর বয়সী কালো ল্যাব্রাডর টি'বো-কে চিরবিদায় জানিয়েছেন, যা তার পুরো পরিবারকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছিল। একদিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি ব্যস্ত হাইওয়ের একটি ফ্লাইওভারের কাছে কংক্রিটের ব্যারিয়ারের সাথে ভয়ে কুঁকড়ে থাকা একটি খুদে বিড়ালছানাকে দেখতে পান।
কোনো দ্বিধা না করে বিচারক রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে আতঙ্কিত বিড়ালটিকে উদ্ধার করেন এবং তক্ষুনি এলএসইউ ভেটেরিনারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। বিড়ালছানাটির পেছনের পায়ে রক্ত জমাট বেঁধে পচন ধরার মতো গুরুতর ক্ষত ছিল—পশুচিকিৎসকরা তাকে জানান যে পা কেটে বাদ দিতে হবে, নয়তো তাকে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া (ইউথানেশিয়া) ছাড়া উপায় থাকবে না।
ক্লিনিকের কর্মীরা জানতে চান হিগিনবোথাম কি এর মালিকানা নেবেন নাকি সেটিকে গৃহহীন অবস্থাতেই ফেলে যাবেন। বিচারক এই অসহায় প্রাণীটিকে ভাগ্যের হাতে কিংবা কোনো আশ্রমে ফেলে আসতে পারেননি এবং সিদ্ধান্ত নেন তাকে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ার। ক্লিনিকে ভর্তির সময় তিনি প্রথমে এর নাম দিয়েছিলেন 'লাকি' (ভাগ্যবতী), তবে বাসায় ফেরার পর তার ছেলেদের সাথে মিলে এর নতুন নাম রাখেন 'বাটারবিন'।
উদ্ধারের সময় মাত্র দুই পাউন্ড ওজনের এই বিড়ালছানাটি সম্ভবত কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতার সাথে লড়াই করছিল। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রতিকূল অবস্থায় তার বেঁচে থাকাটা ছিল এক অলৌকিক ব্যাপার। অস্ত্রোপচারের পর থেকে বাটারবিন বর্তমানে একটি প্রোটেক্টিভ কলার পরে আছে এবং সেলাই না শুকানো পর্যন্ত তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিড়ালছানাটি অসম্ভব চঞ্চল: সে মনের আনন্দে খেলাধুলা করছে এবং ভালো খাওয়ার কারণে দ্রুত তার ওজন বাড়ছে। টি'বো-কে হারানোর শূন্যতার মাঝে বাটারবিন যেভাবে হিগিনবোথাম পরিবারে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে, তা দেখে সবাই অত্যন্ত আনন্দিত।
বিচারক ও বিড়ালছানাটির এই গল্প দেখিয়ে দেয় কীভাবে রাস্তার একটি আকস্মিক সাক্ষাৎ জীবনের নতুন আশা ও সম্পর্কের দ্বার খুলে দিতে পারে। কঠিন সময়ে প্রাণীরা প্রায়ই আমাদের সবচেয়ে বড় অবলম্বন হয়ে ওঠে এবং আমাদের সহমর্মিতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।



