শুধুমাত্র ফিটনেস ট্র্যাকার নয়: কেন পশুচিকিৎসকরা নতুন প্রজন্মের স্মার্ট কলারের ওপর ভরসা করছেন

লেখক: Svitlana Velhush

শুধুমাত্র ফিটনেস ট্র্যাকার নয়: কেন পশুচিকিৎসকরা নতুন প্রজন্মের স্মার্ট কলারের ওপর ভরসা করছেন-1
কুকুর

কুকুররা তাদের শারীরিক অস্বস্তি গোপন করতে অত্যন্ত দক্ষ। এটি টিকে থাকার এক বিবর্তনীয় কৌশল: বন্য পরিবেশে দুর্বলতা প্রকাশ করার অর্থ হলো নিজেকে অন্য শিকারির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা। গৃহপালিত প্রাণীরাও এই বৈশিষ্ট্য উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যার ফলে মালিক ও পশুচিকিৎসকরা অনেক সময় রোগটি বেশ দেরিতে শনাক্ত করতে পারেন, যখন চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে।

শুধুমাত্র ফিটনেস ট্র্যাকার নয়: কেন পশুচিকিৎসকরা নতুন প্রজন্মের স্মার্ট কলারের ওপর ভরসা করছেন-1
কুকুর

দীর্ঘ সময় ধরে কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স বাজারে শুধুমাত্র সাধারণ অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকার বা ফিটনেস ব্যান্ডের মতো ডিভাইস পাওয়া যেত, যা স্রেফ কত কদম হাঁটা হলো তা গণনা করত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি মেলাগুলোতে নির্মাতারা এখন নতুন প্রজন্মের এমন সব ‘ওয়্যারেবল’ ডিভাইস প্রদর্শন করছেন, যেখানে মাল্টিমোডাল নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক স্টার্টআপ ‘স্যাটেলাই’ (Satellai) এবং ‘ড্রিমি’ (Dreame)-র তৈরি করা স্মার্ট কলার। এখন প্রযুক্তির লক্ষ্য স্রেফ মজার ছলে ‘ঘেউ ঘেউ শব্দের অর্থ বের করা’ থেকে সরে এসে স্বাস্থ্যের গভীর ও আগাম বিশ্লেষণের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে।

আধুনিক অ্যালগরিদমগুলো এখন পোষা প্রাণীর একটি তথাকথিত ‘ডিজিটাল টুইন’ বা ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করে। এই বিশেষ কলারটি নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করে: যেমন শরীরের সূক্ষ্ম কম্পন, ঘুমের মান, সক্রিয় থাকার সময়কাল, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং এমনকি গা চুলকানো বা শরীর ঝাড়া দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ধরন। এআই এই তথ্যগুলোকে সংশ্লিষ্ট জাত, বয়স এবং ওই কুকুরের স্বাভাবিক আচরণের তথ্যের সাথে মিলিয়ে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে।

বাস্তবে এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? যদি কোনো কুকুর মানুষের অজান্তেই শোয়া থেকে ওঠার ভঙ্গি পরিবর্তন করে অথবা হাঁটার পর আগের চেয়ে বেশি সময় বিশ্রাম নেয়, তবে অ্যালগরিদম সাথে সাথেই সেই অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করে। এতে থাকা অডিও সেন্সরগুলোর মাধ্যমে সাধারণ উত্তেজনা এবং স্ট্রেস বা আর্থ্রাইটিসের লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার কারণে সৃষ্ট ডাকের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয়। এর ফলে মালিক কোনো অলৌকিক চিন্তার অনুবাদ নয়, বরং চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য একটি সুস্পষ্ট নোটিফিকেশন বা সতর্কতা সংকেত পান।

পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন এই সংগৃহীত তথ্যভাণ্ডারের কার্যকর ব্যবহার শুরু হয়েছে। ক্লিনিকগুলোর কাছে এই প্রযুক্তির প্রধান গুরুত্ব হলো কোনো প্রাণীর শারীরিক অবস্থার একটি বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস পাওয়া। পোষা প্রাণীর মালিকরা যখন অসুস্থতার বিবরণ দেন, তখন তা প্রায়ই আবেগপ্রসূত বা ব্যক্তিগত ধারণানির্ভর হয়ে থাকে। কয়েক সপ্তাহের এআই মনিটরিং গ্রাফ একজন ডাক্তারকে নির্ভুল গাণিতিক তথ্য দেয়: পোষা প্রাণীটি ঠিক কেমন ঘুমিয়েছে, কতটা শারীরিক পরিশ্রম করেছে এবং নির্ধারিত চিকিৎসায় তার শরীর কেমন সাড়া দিচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থার উন্নয়ন পশুচিকিৎসাকে স্রেফ রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করা থেকে সরিয়ে আগাম রোগ প্রতিরোধের দিকে নিয়ে যাবে। প্রযুক্তি কখনোই মানুষের পেশাদার পর্যবেক্ষণ বা চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার বিকল্প হবে না, তবে এটি প্রাণীদের ভালো থাকার নেপথ্য সংকেতগুলোকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

23 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।