দক্ষিণ কোরিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের প্রেসিডেন্ট সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। মাত্র দুই ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্যাটারি প্রকল্প এবং সমুদ্রতীরবর্তী বায়ুবিদ্যুৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উচ্চ-প্রযুক্তি পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিউলের প্রধান লক্ষ্য হলো এএসএমএল (ASML) কোম্পানির নিয়ন্ত্রিত ডাচ লিথোগ্রাফি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডস তাদের গবেষণায় কোরীয় বিনিয়োগ এবং ইউরোপীয় শিল্পের জন্য স্থিতিশীল চিপ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। উভয় পক্ষই চলতি বছরেই যৌথভাবে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প শুরু করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করবে: দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের ২০ শতাংশ মেমোরি চিপ সরবরাহ করে, আর নেদারল্যান্ডস উন্নত চিপ তৈরির জন্য অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। এই যৌথ প্রচেষ্টা একক কোনো সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং ডাটা সেন্টারের যন্ত্রাংশ তৈরির গতি বাড়িয়ে দেবে।
একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ হিসেবে কোয়ান্টাম প্রসেসর পরীক্ষার জন্য একটি যৌথ গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বলা যায়, যেখানে ডাচ কুলিং ও এরর কন্ট্রোল প্রযুক্তির সঙ্গে কোরীয় বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন। এই পদক্ষেপটি বিমূর্ত প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে বাস্তবে রূপ দেবে: যন্ত্রপাতির স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত না হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নতুন কম্পিউটিং সিস্টেম উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে না।
এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে যে, এই দুই দেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় একটি শক্তিশালী বিকল্প মেরু হয়ে উঠতে পারবে নাকি তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল থেকে যাবে।



